

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ:
সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) সংসদীয় আসনের সর্বস্তরের নাগরিকবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আলোকিত সিলেটের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ গোলজার আহমদ (হেলাল)।
তিনি তার পোস্টে বলেন, সিলেট-৪ সংসদীয় আসন ঐতিহ্যগতভাবেই নান্দনিক, পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব সমৃদ্ধ এক জনবহুল জনপদ। “প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত, অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের আধার এবং প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে ভরপুর এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে নানা বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে,” তিনি উল্লেখ করেন।
গোলজার হেলাল বলেন, চব্বিশের রক্তস্নাত ছাত্র গণ অভ্যুত্থানের পর এই এলাকার সাধারণ জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন সময়ের অপরিহার্য দাবী। তিনি আরও বলেন, সংসদীয় এলাকার তিন উপজেলাকে মডেল ও স্মার্টরূপে গড়ে তুলতে প্রয়োজন সৎ, দক্ষ, সাহসী ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, যেখানে সততা ও যোগ্যতাই নেতা নির্বাচনের মূল কথা।
তিনি সততার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের মৌলিক সমস্যা হচ্ছে সৎ ও দক্ষ জনশক্তির অভাব। কিন্তু যোগ্যতার নিরিখে কিংবা বিচারে দায়িত্বশীল পদে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত না হলে জনগণই প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”
গোলজার হেলাল উল্লেখ করেন, “জনপ্রিয়তা মানেই জনবান্ধব নয়, জনপ্রিয় নেতা আর দায়িত্বশীল নেতা এক নয়। নির্বাচন আসলেই প্রার্থীরা অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেন, মিষ্টি হাসি দিয়ে মানুষকে তুষ্ট করার চেষ্টা করেন। আমি কথার ফুলঝুরিতে বিশ্বাসী নই। আমি কাজে বিশ্বাসী, কর্মে অনুরক্ত।”
তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, “‘নেতৃত্বে চাই সততা, সাহসিকতা ও বিশ্বস্থতা’—এই শ্লোগানকে ধারণ করে আসুন আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে সিলেট-৪ আসনকে সাজাই। কালো টাকা, কালো গাড়ী কিংবা পেশীশক্তি নয়, জনতাই বড় শক্তি। জনতার জয় হোক, ক্ষমতার নয়।”
গোলজার হেলাল আবার উল্লেখ করেন, “জুলাই গণহত্যার দৃশ্যমান বিচার, জুলাই সনদের আইনগত স্বীকৃতি ও নতুন সংবিধান প্রণয়নের পর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান একটি জাতীয় দাবি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের ত্যাগ আমরা ভুলবো না। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদেরও মনে রাখবো। আগামীর রাজনীতি মানুষের মর্যাদা, অধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে গড়ে উঠুক।”
তিনি বলেন, “পবিত্র জাতীয় সংসদে আইনপ্রণয়ন হয়। সৎ ও সৃজনশীল আইনপ্রণেতারাই জনবান্ধব সুনীতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ নয়, শিক্ষিত ও সৎ নাগরিককেও জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রয়োজন।”
গোলজার হেলাল তার দীর্ঘদিনের মানুষের সেবা উল্লেখ করে বলেন, “একাডেমিক ব্রাইট ক্যারিয়ার থাকা সত্ত্বেও সরকারি চাকুরিতে না যাওয়া এবং প্রবাসে যাওয়ার সুযোগকে উপেক্ষা করে দেশের মাটিতে জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার মূল কারণ মানুষের জন্য কিছু করা। ছাত্রজীবন থেকেই জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সিলেট-৪ আসনের উন্নয়ন, জনসেবা এবং মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করাই আমার জীবনের ব্রত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন, দরিদ্রদের সহায়তা এবং সংকট মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার ধর্ম।”
শেষে তিনি বলেন, “আপনাদের দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা পেলে আগামী ফেব্রুয়ারী মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনতারই বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ। আমি নয়, জনগণই হবে এই আসনের এমপি। আমার জয় মানে জনতার বিজয়। আমি আপনাদেরই সন্তান, আজীবন আপনাদের মাঝেই থাকতে চাই। মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।
আপনার মতামত লিখুন :