গোলাপগঞ্জে আর দেখা মেলে না বাবুই পাখির ঝুলন্ত বাসা


admin প্রকাশের সময় : মে ৫, ২০২৬, ২০:৩৫ /
গোলাপগঞ্জে আর দেখা মেলে না বাবুই পাখির ঝুলন্ত বাসা

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ:
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার গ্রামাঞ্চলে একসময় প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতীক ছিল বাবুই পাখির ঝুলন্ত বাসা। তালগাছ, সুপারি গাছ কিংবা উঁচু গাছের ডালে সারি সারি ঝুলে থাকা এসব বাসা গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্য হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন প্রায় হারিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অসংখ্য বাবুই পাখির বাসা দেখা যেত। বিশেষ করে বিকেলের দিকে দলবেঁধে বাবুই পাখির ওড়াউড়ি এবং তাদের কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকত চারপাশ। ছোট-বড় সবার কাছেই এটি ছিল এক ধরনের প্রাকৃতিক আনন্দ।

ফুলবাড়ি টিকরপাড়া গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, আগে টিকরের মুকামের সামনের তালগাছে বাবুই পাখি বাসা বাঁধত। এখন সেই তালগাছ না থাকায় আর বাসা চোখে পড়ে না। নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাবুই পাখির সেই নান্দনিক বাসা সরাসরি দেখার সুযোগ পাচ্ছে না।

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, বাবুই পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে রয়েছে বিভিন্ন কারণ। নির্বিচারে গাছ কাটা, গ্রামীণ পরিবেশের পরিবর্তন, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং পাখি শিকারের প্রবণতা এই পাখির অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এছাড়া বসতবাড়ি ও অবকাঠামো নির্মাণের ফলে তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাবুই পাখি শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষির উপকার করে। তাই এদের বিলুপ্তি প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্যও অশনিসংকেত।

প্রকৃতিপ্রেমীরা মনে করছেন, এখনই যদি সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ এই বাবুই পাখি একসময় পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশীয় গাছপালা সংরক্ষণ, পাখি শিকার বন্ধ এবং পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একসময় তালগাছে ঝুলন্ত বাবুই পাখির বাসা ছিল গ্রামের সৌন্দর্যের অন্যতম নিদর্শন। আজ সেই গাছগুলো যেন নীরব—বাবুই পাখির কিচিরমিচির ছাড়া গ্রামবাংলা হারাচ্ছে তার চিরচেনা রূপ।