তদন্তে বৈধ প্রমাণ, তবুও বেতন-ভাতা বন্ধ: বিয়ানীবাজারে মাদরাসা সুপারের অভিযোগ


admin প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১০, ২০২৫, ২০:১৭ /
তদন্তে বৈধ প্রমাণ, তবুও বেতন-ভাতা বন্ধ: বিয়ানীবাজারে মাদরাসা সুপারের অভিযোগ

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সারপার হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মুহাম্মদ ফয়জুল হক দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, বেআইনি বরখাস্ত ও প্রশাসনিক জটিলতার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন ও তদন্ত সত্ত্বেও তিনি এখনও এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে সুপার হিসেবে যোগদানের পর মুহাম্মদ ফয়জুল হকের প্রচেষ্টায় মাদরাসাটি— ২০০৯ সালে দাখিল অনুমতি লাভ করে, ২০১৪ সালে স্বীকৃতি অর্জন এবং ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হয় ।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির আজকের অবস্থান সুপারের দীর্ঘ দিনের পরিশ্রমের ফল বলেও স্থানীয় সূত্র জানায়।

অন্যদিকে, ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় মাদরাসা বন্ধ থাকা অবস্থায় তৎকালীন সভাপতি আব্দুর রহিম দুদু কোনো রেজুলেশন ছাড়াই ০৯ জুলাই ২০২০ তারিখে সুপারকে অবহিত না করে একটি ‘সাময়িক বরখাস্তের’ চিঠি রেখে যান। যেখানে বরখাস্তের ক্ষেত্রে সুপারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা ও তার স্বাক্ষর সংযুক্ত থাকা এবং ৬ মাসের মধ্যে স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এসব বাধ্যতামূলক হলেও কোনোটিই মানা হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি।

 

এ‌‌ই বিষয়ে মুহাম্মদ ফয়জুল হক মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একাধিকবার অভিযোগ দাখিল করেন।

 

ফলে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিয়ানীবাজারকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।‌ তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সরেজমিন পরিদর্শন ও বক্তব্য গ্রহণ শেষে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন ২০০৫ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ফয়জুল হক মাদরাসার বৈধ সুপার , ২০২০ সালের বরখাস্ত বিধিবহির্ভূত এবং বরখাস্তের কোনো বৈধ নথিপত্র নেই। এছাড়াও ব্যানবেইস জরিপেও ২০২২ সাল পর্যন্ত তার নাম সুপার হিসেবে রয়েছে।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্ত প্রতিবেদন মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করেন।

 

এ ব্যাপারে জোরপূর্বক পদত্যাগ, হয়রানি ও বেআইনি অপসারণ ঠেকাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একাধিক নির্দেশনা জারি করলেও মাদরাসা কমিটি সেগুলো উপেক্ষা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন সুপার।

 

নির্দেশনাগুলোতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেতন-ভাতা বন্ধ করা যাবে না, তদন্ত ছাড়া শিক্ষক-কর্মচারী অপসারণ অবৈধ এবং জেলা প্রশাসকদের হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে

 

এ ব্যাপারে নিজ অবস্থান তুলে ধরে মুহাম্মদ ফয়জুল হক জানান, “১,০০০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেছিলাম। সর্বশেষ বেতন ৬,০০০ টাকা। এমপিওভুক্ত বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে—আমি ন্যায্য বিচার চাই।”

 

তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে সুপার দাবি করেছেন— তার বৈধ দায়িত্ব পুনর্বহাল করা, এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা দ্রুত নিশ্চিত করা ও হয়রানিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

 

তিনি ন্যায়বিচারের স্বার্থে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।