বিয়ানীবাজারে তীব্র লোডশেডিং- জনজীবন বিপর্যস্ত


admin প্রকাশের সময় : জুন ২৯, ২০২৬, ০৯:১৮ /
বিয়ানীবাজারে তীব্র লোডশেডিং- জনজীবন বিপর্যস্ত

ভ্যাপসা গরমের মধ্যে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় গত একমাস থেকে ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিংয়ে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১২ ঘন্টার বেশি লোডশেডিংয়ে উপজেলার পল্লীবিদ্যুতের ৬৬ হাজার গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। লোডশেডিংয়ের সাথে লো ভল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক ওয়াটার পাম্প না চলায় বাসা বাড়িতে দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। বিকল হচ্ছে বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ।

জানা যায়, গত এক মাসের বেশি সময় থেকে লোডশেডিংয়ের কারণে পৌরসভা ও ১০ ইউনিয়নের গ্রামীন এলাকায় ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এই সময়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পৌরশহর এলাকায় ১১ থেকে ১২ ঘন্টা এবং মফস্বল এলাকায় ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা লোডশেডিং হয়েছে। সবচেয়ে বাজে অবস্থায় উপজেলার কুড়ারবাজার, মাথিউরা ও তিলপাড়া ইউনিয়নের। গোলাপগঞ্জের সুনামপুর সাবস্টেশন থেকে এ তিন ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লীবিদ্যুৎ। এ তিন ইউনিয়নে দিন রাত মিলিয়ে ১৫ ঘন্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে।

বিয়ানীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রায় ৬৬ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিনি ১৮ থেকে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। ৫টি সাবস্টেশনের মাধ্যমে ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়ায় গত একমাস থেকে লোডশেডিং করা হচ্ছে।

উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের সদরপুরের আখতার হোসেন বলেন, দেড় থেকে দুই ঘন্টা পর বিদ্যুৎ আসে ৪০ মিনিট থেকে একঘন্টা থাকার পর চলে যায়। এর মধ্যে লো ভল্টেজের কারণে পানির পাম্প চালানো যায় না। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকার দুভোর্গের সাথে বাসার পানি না থাকায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। আজো (গতকাল রোববার) বিকাল ৪টায় পর্যন্ত একই অবস্থা। মাথিউরা ইউনিয়নের নালবহরের নজরুল হোসেন বলেন, বুধবার সারা রাত মিলিয়ে ৪/৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ ছিল। গরমে সারা রাত ঘুমোতে পারিনী। বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে বসে রাত পার করেছি। ফজরে আযানের পর অল্প সময় ঘুমিয়েছি। খলাগ্রামের আবিদ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ থাকেনা, তার উপর লো ভল্টেজ। এর ফলে আইপিএসও অচল হয়ে পড়েছে। বেকাপ সার্ভিস দিতে পারতেছে না। গরমে আমাদের অবস্থা বেহাল। তার উপর গত এক মাসে দুইটি ফ্যান ও একটি ফ্রিজ বিকল হয়েছে।

পল্লীবিদ্যুৎ বিয়ানীবাজার জোনাল অফিসের উপ ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পার্থ চক্রবর্তী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কম সরবরাহ পাওয়ায় বিয়ানীবাজার উপজেলায় লোডশেডিং হচ্ছে। রোববার দুপুর ১২টায় আমাদেও চাহিদা ছিল ১৫.৭ মেগাওয়াট, এই সময়ে সরবরাহ দেয়া হয়েছে ৭.১ মেগাওয়াট। আমাদের চাহিদা ১৮ মেগাওয়াটের বেশি কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা থাকবে।