

নিউজ ডেস্ক:
প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটির তদন্তভার প্রথমে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেন আদালত। দীর্ঘ তদন্ত ও অনুসন্ধান শেষে সিআইডি তাদের প্রতিবেদনে এএসপি সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।
সিআইডির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আদালত বাদী ও অভিযুক্তের মধ্যে আপোষ-মীমাংসার সুযোগ দিয়েছিল। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, আপোষ না হলে মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত সোহেল উদ্দিন সময়ক্ষেপণের কৌশল অবলম্বন করেন।
পরবর্তীতে আদালত আর কোনো সময় না দিয়ে গত মঙ্গলবার দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এ সময় আসামিপক্ষ মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করে দেন।
এদিকে নগর পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সোহেল উদ্দিন হাতে অস্ত্রোপচার করানোর কথা উল্লেখ করে ১০ দিনের ছুটির আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদনের ভিত্তিতে তিনি ছুটি নেন। তবে পরে জানা যায়, অপারেশনের কথা বলে ছুটি নিয়ে তিনি ঢাকায় গিয়ে মামলার আসামি হিসেবে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। একই দিনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, দণ্ডবিধির মামলায় কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু হলে সাময়িক বরখাস্তের বিধান রয়েছে। মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি খোরাকি ভাতা ছাড়া অন্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকতে পারেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বুধবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত সহকারী পুলিশ কমিশনার সোহেল উদ্দিনের সরকারি ও ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া মুঠোফোনে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, সে আমার কাছে হাতে অপারেশনের কথা বলে ছুটি নিয়েছে। কিন্তু পরে জানতে পেরেছি সে ঢাকায় গিয়ে মামলায় হাজিরা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছে। আমি তাকে ক্লোজড করব। এমন কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকতে পারে না। তবে এ ধরনের বিষয়ে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা পুলিশ সদর দপ্তরের রয়েছে।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :