দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান, গোলাপগঞ্জবাসী পেল ঘরে’র এমপি 


admin প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৬:৫১ /
দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান, গোলাপগঞ্জবাসী পেল ঘরে’র এমপি 

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ :

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে দীর্ঘ ১৭ বছর পর গোলাপগঞ্জ উপজেলা আবারও পেল নিজস্ব এমপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড.এমরান আহমদ চৌধুরী বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। তার এ বিজয়ে গোলাপগঞ্জজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এ আসনটি গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার—এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত। দীর্ঘ সময় ধরে বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রার্থীই এ আসনে প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন। বিগত ১৭ বছর ধরে এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলার নুরুল ইসলাম নাহিদ। এর আগে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গোলাপগঞ্জের কৃতি সন্তান ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন (লেচু মিয়া), যার পৈতৃক নিবাস গোলাপগঞ্জ উপজেলা আমুড়া ইউনিয়নে।

এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। ‘২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা দেখা যায়। পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন নির্বাচনে। সেই প্রেক্ষাপটে গোলাপগঞ্জবাসী বিপুল সমর্থন দিয়ে এড. এমরান আহমদ চৌধুরীকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেন।

নবনির্বাচিত এমপি এড. এমরান আহমদ চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৩ নং ফুলবাড়ী ইউনিয়নের কতুয়ালপুর গ্রামে। স্থানীয়ভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার কারণে তিনি আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন।

নির্বাচনে তার সঙ্গে আরও চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যাদের সবাই বিয়ানীবাজার উপজেলার বাসিন্দা। তবে ভোটের মাঠে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উভয় উপজেলার ভোটারদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হন এড. এমরান আহমদ চৌধুরী। নির্বাচনের ফলাফল বেসরকারি ভাবে ঘোষণার পর থেকেই দুই উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, দীর্ঘদিন পর গোলাপগঞ্জ উপজেলা থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় এলাকায় উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে তারা নতুন এমপির সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন।

বিজয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় এড. এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, “এই বিজয় আমার একার নয়, এটি গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের সর্বস্তরের জনগণের বিজয়। আমি দল-মত নির্বিশেষে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।” তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের পর এবার সিলেট-৬ আসনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন দেখার বিষয়, প্রত্যাশার এই পাহাড় সমান সমর্থনকে কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তব উন্নয়নে রূপ দিতে পারেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এড. এমরান আহমদ চৌধুরী।