

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ :
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় চলমান বিশেষ অভিযান ‘ডেভিল হান্ট ফেইজ–২’ এর আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের চারজন এবং যুবলীগের একজন নেতাসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, অভিযানের প্রথম দিনে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গোলাপগঞ্জের আহমদ খান রোড এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই শীর্ষস্থানীয় নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন— স্বরস্বতী নিজগঞ্জ এলাকার আব্দুল মুকিতের ছেলে মো. সোয়িন এবং ঘোষগাঁও টিলাগাঁও এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুছ ছামাদ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত এই দুইজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের গোলাপগঞ্জ উপজেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মো. সোয়িনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত দুটি মামলা ও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। অপরদিকে আব্দুছ ছামাদের বিরুদ্ধে রয়েছে একটি চাঁদাবাজির মামলা। গ্রেফতারের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে গোলাপগঞ্জ থানাধীন ভাদেশ্বর মোকাম বাজার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি হলেন— ভাদেশ্বর দক্ষিণভাগ দরগা দাইর গ্রামের শেখ সাইমুল ইসলাম রুবাব।
পুলিশ জানায়, শেখ সাইমুল ইসলাম রুবাব নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের গোলাপগঞ্জ উপজেলা শাখার ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি।
এদিকে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গোলাপগঞ্জ পৌরসভার উত্তরবাজার এলাকা থেকে যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত একই পরিবারের দুই ভাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন— দাড়িপাত এলাকার রুমেছ আহমদ (৩৫) ও তার ভাই ইমতিয়াজ আহমদ (২৫)।
পুলিশের ভাষ্যমতে, রুমেছ আহমদ স্থানীয় যুবলীগের নেতা এবং ইমতিয়াজ আহমদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো:আরিফুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ‘ডেভিল হান্ট ফেইজ–২’ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :