কানাইঘাটে নবাগত ইউএনও’র সভা বয়কট রাজনৈতিক দলগুলোর


admin প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৭, ২০২৫, ১৪:৩২ /
কানাইঘাটে নবাগত ইউএনও’র সভা বয়কট রাজনৈতিক দলগুলোর

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় নবাগত নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান শাকিলের বিরুদ্ধে যোগদানের পরই বিতর্কিত ও একাধিক মামলার আসামী এক ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ইউএনও কর্তৃক আহুত বিশেষ মতবিনিময় সভা বয়কট করেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ উপজেলার সকল রাজনৈতিক দল।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সম্মানে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত সময় সকাল ১১টায় অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিএনপি, জামায়াত, খেলাফত মজলিস বা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত হননি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর রাজনৈতিক নেতাদের অনুপস্থিতিতেই উপস্থিত সাংবাদিক ও কয়েকজন সাধারণ নাগরিকের সাথে মতবিনিময় করেন ইউএনও।

রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৩ ডিসেম্বর কানাইঘাটে যোগদান করেন ইউএনও মো. মেহেদী হাসান শাকিল। যোগদানের মাত্র দুদিনের মাথায় শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) তিনি উপজেলার ১নং লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নের দুর্গম মুলাগুল এলাকায় সফরে যান। সেখানে তিনি ‘পাথর তমিজ’ খ্যাত বিতর্কিত ইউপি চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিনের বাড়ির পার্শ্ববর্তী মসজিদে জুমার নামাজের পর বক্তব্য রাখেন। এসময় হত্যা ও একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত ওই চেয়ারম্যান ইউএনও’র পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ছবি ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নেটিজেনরা নবাগত ইউএনওকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যায়িত করে তার প্রত্যাহারের দাবি জানান। বিতর্কিত ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে ইউএনও’র ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে না পেরে রাজনৈতিক দলগুলো আজকের সভা বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়।

সভা বয়কটের বিষয়টি নিশ্চিত করে কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন এবং উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাস্টার ফয়সল আহমদ জানান, পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে নিয়ে জনসমক্ষে ইউএনও’র উপস্থিতি দুর্ভাগ্যজনক। এর প্রতিবাদেই তারা সভায় অংশ নেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অবৈধ পাথর ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তিনি বর্তমানে পলাতক এবং কিছুদিন আগে স্থানীয় জনরোষের মুখে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়েও ঢুকতে পারেননি। এমন একজন ব্যক্তির এলাকায় যোগদানের পরপরই ইউএনও’র সফর এবং তার সঙ্গে ছবি তোলা নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাথর ও বালু মহালের প্রতি বিশেষ আগ্রহ থেকেই হয়তো ইউএনও সেখানে গিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবাগত ইউএনও মো. মেহেদী হাসান শাকিল দাবি করেন, চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন যে পলাতক আসামি বা বিতর্কিত ব্যক্তি, তা তিনি জানতেন না। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না জানা কিংবা না জেনে দুর্গম এলাকায় সফর করার বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নবাগত ইউএনও’র ভূমিকা নিয়ে উপজেলায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক মহল থেকে অবিলম্বে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।