

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ :
গোলাপগঞ্জের প্রথম ও পথিকৃৎ অনলাইন টিভি জিবি টেলিভিশন আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ১ লক্ষ ফলোয়ারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। অনলাইন মিডিয়ার পরিবর্তনশীল অঙ্গনে যাত্রার শুরু থেকে জনগণের আস্থা, দ্রুত সংবাদ পরিবেশন এবং স্থানীয় বাস্তবতার প্রতি দায়বদ্ধতা—এই তিনকে মূল শক্তি হিসেবে নিয়ে জিবি টেলিভিশন অল্প সময়েই পরিণত হয়েছে গোলাপগঞ্জের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে।
২০১৮ সালে একঝাঁক তরুণকে সঙ্গে নিয়ে গোলাপগঞ্জের উদীয়মান সাংবাদিক বদরুল আলম প্রতিষ্ঠা করেন জিবি টেলিভিশন। তখনো এলাকায় অনলাইন নিউজমাধ্যমের ধারণা খুব বেশি বিস্তৃত হয়নি। সেই সময়ে বদরুল আলম সাহসী উদ্যোগ নিয়ে এই নতুন ধারার সংবাদ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন। তার লক্ষ্য ছিল—জনগণের কথা জনগণের সামনে তুলে ধরা।
তিনি বিশ্বাস করতেন, স্থানীয় উন্নয়ন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা বলার জন্য একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম হওয়া জরুরি।
এই বিশ্বাস থেকেই জিবি টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয় ‘স্থানীয় স্বার্থে ও ন্যায়ের পক্ষে’—এই অঙ্গীকারকে কেন্দ্র করে। একদল তরুণ ও স্বপ্নবাজদের নিয়ে যাত্রা শুরু করেন।
প্রতিষ্ঠার শুরুতে খুব বেশি সরঞ্জাম না থাকলেও ছিল সীমাহীন স্বপ্ন, অক্লান্ত পরিশ্রম আর বদলে দেওয়ার অদম্য ইচ্ছা। ক্যামেরা, মোবাইল ফোন আর অনলাইন স্ট্রিমিং—এই তিনকে ভর করে তরুণ টিম ছুটে গেছে ঘটনাস্থলে, গ্রামে, গঞ্জে, মানুষের দোরগোড়ায়।
রাত-বিরাতে লাইভ, বৃষ্টি-ঝড়ে মাঠে কাজ—সব মিলিয়ে এক অনন্য প্রচেষ্টায় আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে জিবি টেলিভিশন।
গোলাপগঞ্জে প্রথমবারের মতো অনলাইন টিভির ধারণা প্রতিষ্ঠা করায় স্থানীয় সংবাদ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে।
জিবি টেলিভিশনের বিশেষত্ব, ঘটনাস্থল থেকে লাইভ সংবাদ প্রচার,সাধারণ মানুষের বক্তব্য তুলে ধরা,প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়া,দুর্ঘটনা, জরুরি অবস্থা বা সংকটময় সময়ে তাৎক্ষণিক আপডেট,উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন,মানবিক উদ্যোগ, সামাজিক ইস্যু ও স্থানীয় তরুণদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরা।
এই অনন্য কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই জিবি টেলিভিশন মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে খুব দ্রুতই।
আজকের এই মাইলফলক শুধু সংখ্যার অর্জন নয়—এটি গোলাপগঞ্জবাসীর নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা, বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতীক।
জিবি টেলিভিশন জানায়“যারা শুরু থেকে প্রতিটি লাইভ দেখেছেন, শেয়ার করেছেন, মতামত দিয়েছেন—তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। জনগণের টিভি হিসেবে আপনাদের আস্থা আমাদের প্রেরণা।”
জিবি টেলিভিশন এর প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক বদরুল আলম বলেন
“জিবি টেলিভিশন শুধু খবর প্রচারের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের কথা বলার প্ল্যাটফর্ম। আমরা শুরু থেকেই চেষ্টা করেছি সত্য, নির্ভুল ও দায়িত্বশীল সংবাদ দিতে। ভবিষ্যতে আরও আধুনিক প্রযুক্তি, আরও প্রশিক্ষিত টিম এবং আরও দ্রুত সংবাদ পৌঁছে দিতে আমরা প্রস্তুত হচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, নতুন প্রজন্মের আগ্রহী তরুণদের মিডিয়া প্রশিক্ষণ, অনলাইন সাংবাদিকতার দক্ষতা ও ক্যামেরা পরিচালনার শিক্ষা দেওয়ার জন্য জিবি টেলিভিশন এই বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেছে।
জিবি টেলিভিশন শুধু সংবাদই দেয়নি; বরং এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা ও লোকগাথাকে তুলে ধরতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
‘ইতিহাস ঐতিহ্যের খোঁজে’—এই বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে গোলাপগঞ্জের লুকিয়ে থাকা বহু গল্প মানুষ নতুনভাবে জানতে পারবে।
আগামী দিনে জিবি টেলিভিশন যেসব উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে গোলাপগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়ন নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন,লাইভ স্টুডিও আপগ্রেড,তরুণদের নিয়ে গবেষণাভিত্তিক রিপোর্টিং,স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
১ লক্ষ মানুষের আস্থা অর্জন কোনো ছোট অর্জন নয়।
জিবি টেলিভিশনের এই মাইলফলক শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়—এটি গোলাপগঞ্জের মানুষের ভালোবাসার গল্প।
স্থানীয় সাংবাদিকতায় নতুন দিগন্তের সূচনা করা জিবি টেলিভিশন আগামীতেও ন্যায়ের পক্ষে, মানুষের পক্ষে, স্থানীয় স্বার্থের পক্ষে শক্ত কণ্ঠ হয়ে থাকবে—এটাই সকলের প্রত্যাশা।
আপনার মতামত লিখুন :