চুড়ান্ত মনোনয়ন না আসা পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার আহবান জানালেন ফয়সল চৌধুরী


admin প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৪, ২০২৫, ০৯:২৯ /
চুড়ান্ত মনোনয়ন না আসা পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার আহবান জানালেন ফয়সল চৌধুরী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আদর্শে বিশ্বাসী জনগণের কর্মী হিসেবে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্যপ্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী। যেখানে তিনি দলীয় নেতাকর্মীসহ গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এবং চুড়ান্ত মনোনয়ন না আসা পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার আহবান জানান।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি দলের সহকর্মী ও এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন—

দলের সাথে আমার পথচলা অনেক দিনের। ১৯৮৭-৮৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে গুটি কয়েক ছাত্রনেতাকে নিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে রাজনীতির সূচনা করি। লাভ-ক্ষতির হিসাব কখনো করিনি। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অসংখ্য লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিয়েছি। বহুবার বাড়ি-ঘরে হামলার শিকার হয়েছি, কখনো আমি নিজে আক্রান্ত হয়েছি, কখনো আমার পরিবার আক্রান্ত হয়েছে। কারাবরণ করেছি, আবার কখনো ফেরারী জীবনও কাটাতে হয়েছে।

আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্তগুলোর একটি—যেদিন আমার মা মারা যান, সেই রাতেই সেনাবাহিনী আমাদের বাসায় অভিযান চালায়। এই গল্প শুধু আমার একার নয়—এ রকম কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে অসংখ্য ছাত্রনেতাকে পার হতে হয়েছে।

জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় আমি ব্যয় করেছি দলের জন্য। দলও আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে—নেতা-কর্মীদের অকৃত্রিম ভালোবাসা পেয়েছি। দলের কারণেই ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হয়েছি।

২০১৮ সালে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দল আমাকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়। আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি। সেই নির্বাচনের কারণে আমার ব্যবসায়িক জীবনেও আঘাত আসে—নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে আমাকে সরে যেতে হয়। পরবর্তীতে দুদকের মিথ্যা মামলার মাধ্যমে আমাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়, আর পরবর্তিতে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সেটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছে।

প্রিয় গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারবাসী,
দীর্ঘ ১৭/১৮ বছর আপনাদের সঙ্গে চলেছি। আপনাদের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তার ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি নিঃস্বার্থভাবে আপনাদের পাশে থাকতে—সকল বিপদ-আপদে। ইনশাআল্লাহ, আগামীতেও থাকব।

আমি জানি, আমার জন্য অনেকেই কষ্ট করেছেন। হয়তো আমাকে ভালোবাসার কারণেই ভবিষ্যতেও কিছু কষ্ট সহ্য করতে হতে পারে। দলের সিদ্ধান্তে হয়তো আপনাদের কারও হৃদয় ভেঙে গেছে। যদি এই সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে, তবুও আমি অনুরোধ করব—হতাশ হবেন না। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই সর্বোত্তম ফয়সালা করেন।

এই দল আমাদের সন্তানের মতো—আমাদের ভালোবাসার শেষ আশ্রয়স্থল। আমরা কী পেলাম বা না পেলাম, তা না ভেবে কেবল প্রার্থনা করি—আমাদের প্রিয় দলটি যেন ভালো থাকে।

আমি আপনাদের ভাই, আপনাদের বন্ধু—সবসময় আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব ইনশাআল্লাহ। চুড়ান্ত মনোনয়ন না আসা পর্যন্ত আপনারা সবাই ধৈর্য ধরুন, কারণ আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।