

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ :
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জের বিরশ্রীতে অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো জমিদার বাড়ি এখন ধ্বংসের মুখে। একসময় জমিদার পরিবারের ঐশ্বর্য ও গৌরবের প্রতীক হলেও বর্তমানে এটি জীর্ণ-শীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।
বাড়িটি ছিল জমিদার দীপ্তি কুমার দাসের পরিবারিক আবাসস্থল, যেখানে বহু প্রজন্ম ধরে পরিবারের সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। বর্তমানে বাড়ির দেখভাল করছেন চতুর্থ জমিদারের ছেলে শুভ্র কান্তি দাস, যিনি বলেন, “ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এত বড় বাড়িটি সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিবারের অনেক সদস্য ভারতে বসবাস করছেন, ফলে বিক্রি বা সংস্কারের কোনো উদ্যোগও নেওয়া যাচ্ছে না।”
বাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দুর্গা পূজার কাছারি ঘর। প্রতি বছর দুর্গাপূজার সময় এখানে পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হতো। পূজা শেষে একই ঘরে জমিদারের বিচার-সালিশ ও সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজও সম্পন্ন হতো। স্থানীয়রা মনে করেন, এই কাছারি ঘর শুধুই ধর্মীয় নয়, সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
এলাকার হিন্দু সমাজের সক্রিয় সদস্য দেবজিৎ বিশ্বাস বলেন, “এই জমিদার বাড়ি শুধু একটি পুরনো স্থাপনা নয়, এটি আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। বহু প্রজন্ম ধরে এখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সালিশ বসেছে। আজ অবহেলায় ভেঙে পড়তে দেখা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।”
স্থানীয়রা আরও জানান, এক সময় এই বাড়ি ছিল এলাকার অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। পরিবারের সদস্যরা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, সামাজিক ও মানবিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেন এখানে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং পরিবারের সদস্যদের দেশের বাইরে অবস্থানের কারণে বাড়ি সংস্কার বা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
শুভ্র কান্তি দাশ জানান, “যদিও আমি বাড়ির দেখভাল করছি, তবে একটি বড় পরিবার এবং প্রাচীন বাড়ি একা সামলানো কঠিন। আশা করি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের কারও সহযোগিতা পেলে ঐতিহাসিক এই জমিদার বাড়ি রক্ষা করা সম্ভব হবে।”
বীরশ্রী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গদাধর গ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি এলাকায় বাবুর_বাড়ি নামে খ্যাত। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্যোগ নিলে এটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
আপনার মতামত লিখুন :