জিবি টেলিভিশনের ৭ম বর্ষপূর্তি ও গোলাপগঞ্জে সাংবাদিকতার গতিপথ


admin প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০২৫, ২২:০৯ /
জিবি টেলিভিশনের ৭ম বর্ষপূর্তি ও গোলাপগঞ্জে সাংবাদিকতার গতিপথ

আনোয়ার শাহজাহান 

জিবি টেলিভিশনের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চ্যানেলটির সম্মানিত চেয়ারম্যান, পরিচালকবৃন্দ, কর্মকর্তা, অনুষ্ঠান নির্মাতা, সংবাদদাতা, উপস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। গোলাপগঞ্জের প্রথম অনলাইন টেলিভিশন হিসেবে জিবি টেলিভিশন আজ গোলাপগঞ্জ থেকে শুরু করে সারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এ প্রতিষ্ঠানের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।

গোলাপগঞ্জ, সিলেট জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুনামখ্যাত উপজেলা। এখানকার প্রবাসীরা যেমন বিদেশের মাটিতে গড়ে তুলেছেন নানা সংগঠন, তেমনি নিজ এলাকাতেও বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের সূচনা করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জিবি টেলিভিশন, যা গোলাপগঞ্জের ইতিহাসে প্রথম অনলাইন টিভি হিসেবে অনন্য স্থান দখল করেছে।

দেশে গেলে জিবি টেলিভিশনের স্টুডিওতে না যাওয়া যেন অসম্পূর্ণতা বোধ করায়। কখনো সরাসরি লাইভ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি, আবার কখনো ব্যস্ততার কারণে তা সম্ভব হয় না। কিন্তু সবসময়ই এই টিভির প্রতি আমার এক গভীর ভালোবাসা অনুভব করি। এটি শুধু একটি অনলাইন টিভি নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য এবং সমসাময়িক বাস্তবতাকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

বর্তমান যুগে অনলাইন টেলিভিশনের জয়জয়কার। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি সম্প্রচারের সুবিধা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের একটি অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। কয়েক বছর আগেও আমরা কল্পনা করতাম না, আজ যা ঘটবে তা তৎক্ষণাৎ বিশ্বের অন্য প্রান্তে বসে দেখা যাবে। এখন আর পাঠকরা পরদিনের পত্রিকার অপেক্ষায় থাকেন না—বরং “লাইভ”ই হয়ে উঠেছে বাস্তবতার ভাষ্যকার। এই পরিবর্তনের অগ্রভাগে রয়েছে জিবি টেলিভিশনের মতো সাহসী উদ্যোগ।

গোলাপগঞ্জে সাংবাদিকতা আজ একটি বিস্তৃত পেশা। অনেকেই এখন সাংবাদিকতাকে শুধুমাত্র সমাজসেবার মাধ্যম নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ পেশা ও আয়ের উৎস হিসেবে নিচ্ছেন। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। কিন্তু মনে পড়ে যায়, দুই দশক আগের কথা—যখন আমরা গোলাপগঞ্জ প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠা করি, তখন ৭ জনের বেশি সক্রিয় সাংবাদিক খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ সেই সংখ্যা শতাধিক।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, সাংবাদিকতার এই বিস্তৃতি ও জনপ্রিয়তার বিপরীতে আমরা হারিয়ে ফেলেছি ঐক্য। গত এক দশক ধরে গোলাপগঞ্জ প্রেস ক্লাব কার্যত একটি স্থবির অবস্থায় রয়েছে। কোনও কার্যকর কমিটি নেই, নেই সদস্যদের মধ্যে দৃঢ় সংহতি। গ্রুপিং, ব্যক্তিস্বার্থ, পদ-পদবির জন্য দৌড়ঝাঁপ এবং ক্লাবকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার—এসব শুনলেই গভীর বেদনা অনুভব করি। সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, যেখানে ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং সমাজকে সঠিক তথ্য জানানোই মূল দায়িত্ব। সেই মহান দায়িত্ব আজ গোলাপগঞ্জে অনেক ক্ষেত্রে চাপা পড়ে যাচ্ছে ব্যক্তি স্বার্থের নিচে।

এখন সময় এসেছে তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে আসার। যারা সত্যিকার অর্থে সাংবাদিকতার চেতনায় বিশ্বাস করে, তাদের উচিত গত এক দশকের অচলাবস্থার হিসাব চাওয়া। ক্লাবের ঐক্য পুনর্গঠন, একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

জিবি টেলিভিশনের সাফল্যের গল্প আমাদের আশা দেয় যে গোলাপগঞ্জে সম্ভাবনার কোনো ঘাটতি নেই। দরকার শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব এবং আত্মত্যাগ।

আমার একান্ত কামনা, গোলাপগঞ্জে কেউ যেন কখনও সাংবাদিকতার পবিত্রতাকে কলুষিত না করেন। সবাই যেন নৈতিকতা, সততা ও পেশাদারিত্বের আলোকে এই পেশাকে এগিয়ে নিয়ে যান।

আনোয়ার শাহজাহান
ইসি মেম্বার, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব
সভাপতি, ইউকে বাংলা অনলাইন প্রেস ক্লাব
সম্পাদক, আমাদের প্রতিদিন ও লন্ডন বিচিত্রা
লেখক ও সাংবাদিক, যুক্তরাজ্য