সেই লিটন-মুস্তাফিজ এখন দলের স্তম্ভ


admin প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫, ০৮:২৭ /
সেই লিটন-মুস্তাফিজ এখন দলের স্তম্ভ

বয়সে কয়েক মাসের বড় লিটন। তবে জাতীয় দলে প্রথম জার্সি কাছাকাছি সময়েই। টি২০ ম্যাচে ২০১৫ সালে পাকিস্তান সিরিজে দুজনেই ডাক পান, তবে মুস্তাফিজের অভিষেক হলেও লিটনকে অপেক্ষা করতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরের সিরিজে। ওয়ানডেতে দুজনের আন্তর্জাতিক যাত্রা একই দিনে– ৮ জুন, ২০১৫; মিরপুরে। টেস্টেও এক সিরিজ আগে-পরে দুজনের ক্যাপ পরা। চট্টগ্রামের সেই টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মুস্তাফিজ ম্যাচসেরা হয়েছিলেন আর লিটন পেয়েছিলেন ‘বেস্ট বাংলাদেশি পারফর্মার’-এর পুরস্কার।

আজ এত বছর বাদে সেই দুজন এখন দলের স্তম্ভ। মজার ব্যাপার হলো, তাদের দুজনেই সেদিন দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এবং স্বভাবতই তা নীরবে। একজন আন্তর্জাতিক টি২০-তে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৫৫৬ রান করে সাকিব আল হাসানকে টপকে গেছেন। আরেকজন বোলিংয়ে ১৪৯ উইকেট শিকার করে সাকিব আল হাসানকে স্পর্শ করেছেন। দলের এ দুই অভিজ্ঞ সদস্যের আরেকটি মিল বেশ চোখে পড়ার মতো। তারা মাঠে যতটা স্বচ্ছন্দ থাকেন, ততটাই অস্বস্তি তাদের মিডিয়াতে। কেউই ক্যামেরার সামনে না পারলে আসতে চান না। ফেসবুকেও তাদের কোনো ভক্তকুলকে প্রশ্রয় দেন না। বর্তমান দলে তাদের একজন বটবৃক্ষ হলে অন্যজন ‘অশ্বত্থ’। প্রতিদানের আশা না করে যারা শুধুই ছায়া দিয়ে যান ক্লান্ত পথিককে।

হয়তো তাদের নিয়ে সেই প্রজন্মে ‘সাকিব-তামিম’ বন্ধুত্বের মতো গল্প কাগজে বেরোয় না। আবার ড্রেসিংরুমের কথাও ফাঁস হয় না। কারণ, তাদের সম্পর্কের ভিতটা শুধুই ক্রিকেট ও জাতীয় দল। যেখানে অধিনায়ক লিটন বিপদের আঁচ পেলেই বল তুলে দেন মুস্তাফিজের হাতে। আবার দলের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কাছে এসে মুস্তাফিজও কাঁধে হাত রাখেন লিটনের। এই আস্থার ওপর ভিত্তি করেই সেদিন শ্রীলঙ্কাকে সুপার ফোরে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

লঙ্কানরা পাওয়ার প্লেতে ৫৩ রান তুলে আগুন ধরানোর অপেক্ষায় ছিল, ঠিক তখনই বিপদের বন্ধু মুস্তাফিজের শরণাপন্ন লিটন। সপ্তম ওভারে এসে মাত্র ৩ রান খরচ করেন মুস্তাফিজ। ফের ১৪তম ওভারটিতে ডাক পড়ে মুস্তাফিজের। এবারে কুশল পেরেরার উইকেটসহ ৬ রান। ১৭তম ওভারটিতে শানাকাকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছিলেন, যদিও সেটি মিস করেন শামীম। কিন্তু ওই ওভারটিতেও আসালাঙ্কা ক্যাচ উঠিয়েছিলেন। ১৯তম ওভারে এসে কামিন্দু মেন্ডিস আর হাসারাঙ্গার উইকেটসহ মাত্র ৫ রান।

ঠিক তাঁর কারণেই যে লঙ্কানদের মোমেন্টাম নষ্ট হয়েছে, সে কথা ম্যাচের পর নিজের মুখেই বলেছেন শানাকা, ‘মুস্তাফিজ বিশ্বমানের বোলার। আইপিএল খেলে, দেশের হয়ে প্রায় ১০ বছর ধরে খেলছে। তাঁর কাছে পরাস্ত হওয়া চিন্তার কিছু নেই। তাঁকে তাঁর কৃতিত্ব দিতেই হবে।’

সতীর্থ সাইফ হাসানের মুখেও মুস্তাফিজ ভাইয়ের কার্যকর স্পেলগুলোর প্রশংসা, ‘মুস্তাফিজ ভাই এদিন অল্প রান দিয়ে যে উইকেটগুলো নিয়েছেন, সেটি ছিল ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আমরা সবাই জানি, তিনি বিশ্বমানের বোলার। দল যখনই বিপদে পড়ে, তখনই তাঁর কাছ থেকে ভালো কিছু পায়।’

মুস্তাফিজের মতো লিটনকে নিয়েও গর্বিত সাইফ, ‘তানজিদ আউট হয়ে যাওয়ার পর লিটন দাদা আমাকে কাউন্টার অ্যাটাকে যেতে বলেন। যেটি আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল।’ সাইফকেই শুধু নন, নিজেও এদিন আক্রমণাত্মক মুডে গিয়েছিলেন লিটন। রানরেট কোনোভাবেই ৭-এর নিচে নামতে দেননি। চামিরাকে এসেই বাউন্ডারিছাড়া করেছিলেন। এমনকি তিনি ২৩ রান করে ডাগআউটে ফিরতে ফিরতেও থেমে গিয়ে তাওহীদ হৃদয়কে কিছু একটা বলে যান। আবার আসালাঙ্কাকে রানআউট করার পরও বিরক্ত ছিলেন তাওহীদ ক্যাচ মিস করে মাটিতে শুয়ে পড়ায়। এভাবেই ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন লিটন। শুধু মাঠের বাইরে এলেই ফের নীরব তিনি। ঠিক মুস্তাফিজের মতো।