

বাদ ফজর (রবিবার ২২ জুন ২০২৫ ইং) জালালাবাদ মক্তব শিক্ষাবোর্ড ঢাকাদক্ষিণ এর ৩ সদস্য্যের একটি কাফেলা বের হই বিভিন্ন মক্তব সফরে। প্রায় মসজিদ তালা মারা। ইমাম সাহেব থাকলেও ঘুমে! আর মক্তব বলতে তো কোন নাম নিশানা নেই। যেন মসজিদগুলো হাহাকার করছে। কে দেখবে? কে জাগবে? কে জাগাবে?
মসজিদগুলো মাশা-আল্লাহ টাইলসে সাজানো। ঝকঝকা। বিশাল বিশাল মসজিদ। নয়ন জুড়ানো। মনোরম পরিবেশ। কিন্তু নেই কোন জৌলুস। আলিফ বা তার সুর যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। দ্বীনিয়াত এর আওয়াজ বা সভ্যতা নেই। বুকে কুরআন, হাতে রেহাল আর সারিবদ্ধ মক্তবপানে ছুটে চলার হৃদয় জুড়ানো সেই অতীত দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। আফসোসও যেন লজ্জিত! কী জবাব দেব। যখন রব তার দ্বীন সম্পর্কে জানতে চাইবেন।
মসজিদের মক্তবগুলো ফিরিয়ে আনুন! শুধু কমিটির সভাপতি সেক্রেটারি হওয়া। ইমাম সাহেবের উপর মাতব্বরি করা। এসব চিন্তা বাদ দিন। নিজ ঘর সহ এলাকার বাচ্চাদের জন্য ফিকির করুন। আপনি মসজিদের সভাপতি সেক্রেটারি না হলে আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন না। কিন্তু আপনার খামখেয়ালি বা দায়িত্বহীনতার কারণে এলাকার বাচ্চারা কেন দ্বীন জানলো না। তার হিসাব দিতেই হবে।
আমাদের দায়িত্বহীনতার কারণে আজ কতশত বাচ্চারা দ্বীন থেকে বঞ্চিত! হই আমি মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন বা কমিটির দায়িত্বশীল। আমরা সব করতে পারি। শুধু পারি না মক্তব শিক্ষায় পুনর্জাগরণ ঘটাতে। বর্তমানে মক্তব শিক্ষাকে অবহেলার ঝুপড়িতে ফেলে রেখেছি। অথচ এই মক্তব শিক্ষা আমাদের সন্তানদের বুনিয়াদি শিক্ষা। যে শিক্ষা ব্যতিত তারা দুনিয়া আখেরাতে অকৃতকার্য।
আসুন! আমরা একটু গা ঝাড়া দেই। আজই প্রস্তুতি গ্রহণ করি। নিজে বাঁচি। অন্যকে বাঁচাই।
১.মক্তব শিক্ষা উন্নয়ন কমিটি করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
২. মসজিদের ইমাম সাহেবকে প্রধান করে কাজ শুরু কর।
৩. দাওয়াতি ও তদারকি কাফেলা গঠন করা।
৪. মক্তব শিক্ষা উন্নয়নে আর্থিক ফান্ড গঠন করা।
৫. পঞ্চায়েতিভাবে মক্তব শিক্ষায় বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া।
৬. পরীক্ষা, পুরস্কার, প্রতিযোগিতা ইত্যাদি অনুপ্রেরণামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা।
৭. বিবিধ।
নোমান মাহফুজ
সাধারণ সম্পাদক
জালালাবাদ মক্তব শিক্ষা বোর্ড ঢাকাদক্ষিণ
গোলাপগঞ্জ সিলেট।
আপনার মতামত লিখুন :