

যৌতুকের বলি মোহনা, নাকি মানসিক রোগী স্বামী? গোলাপগঞ্জে গৃহবধূ হত্যা ঘিরে রহস্য
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের উত্তর জাঙ্গালহাটা গ্রামে গৃহবধূ ফাহমিদা আক্তার মোহনার মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বামীর শাবলের আঘাতে নিহত হওয়ার এ ঘটনায় একদিকে উঠেছে যৌতুক নির্যাতনের অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযুক্তকে মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি করছে তার পরিবার। ফলে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা।
গত শনিবার (২৩ মে) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উত্তর জাঙ্গালহাটা গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ছদরুল তার স্ত্রী মোহনাকে শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মোহনা।
নিহত মোহনার ৪ বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে। তার নাম আবির আহমদ।
ঘটনার খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
লক্ষীপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহতাবউদ্দিন জেবুল বলেন, “মোহনা অত্যন্ত ভালো ও শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিলেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
নিহতের বাবা মুমিনুল ইসলাম মামুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের জামাই দীর্ঘদিন ধরে যৌতুক দাবি করে আসছিল। সামর্থ্য অনুযায়ী অনেক কিছু দিয়েছি। তারপরও আমার মেয়েকে নির্যাতন করতো। শেষ পর্যন্ত শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম রাজু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই যৌতুকের জন্য মোহনাকে চাপ ও নির্যাতনের মধ্যে রাখা হয়েছিল। যৌতুক না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা মনে করছি।”
অন্যদিকে, অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন নিহতের স্বজনরা।
নিহতের স্বজন শাহজান আহমদ বলেন, “এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এখন দায় এড়ানোর জন্য তাকে মানসিক রোগী বলা হচ্ছে। সে পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিল। পরিবারের আরও সদস্য এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে।”
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত স্বামী এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দাফনের পর নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন— সত্যিই কি অভিযুক্ত মানসিক রোগী, নাকি যৌতুকের নির্মম বলি হলেন গৃহবধূ মোহনা? এখন সবার নজর পুলিশের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার দিকে।
আপনার মতামত লিখুন :