

লিমন আহমদ, গোলাপগঞ্জ: রেহাল হাতে ক্বায়দা—কুরআন বুকে নিয়ে মক্তবে যাওয়ার দৃশ্য এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা সেই সকালের মক্তব। যার ফলে শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে বর্তমান প্রজন্মরা বড় হচ্ছে ধর্মীয় শিক্ষার আলো—ছায়া ছাড়া। টিউশনি আর কিন্ডারগার্টেন এবং অভিভাবকদের অসচেতনতায় গড়ে উঠছে এমন প্রজন্ম, যাদের অধিকাংশই জানে না দ্বীনের ব্যাসিক শিক্ষা। নৈতিকতা, শিষ্টাচার এবং ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের গোড়া হচ্ছে সাবাহি মক্তবগুলো। যুগ যুগ ধরে চলে আসা মক্তব শিক্ষায় পুনর্জাগরণের লক্ষ্য নিয়ে সিলেটের গোলাপগঞ্জের ৬ নং ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সাবাহি মক্তব শিক্ষাবোর্ড ঢাকাদক্ষিণ।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও খতীবদের সংগঠন জালালাবাদ ইমাম সমিতি ঢাকাদক্ষিণ ইউপি শাখার সার্বিক তত্ত্বাবধানে আত্মপ্রকাশ করে জালালাবাদ মক্তব শিক্ষাবোর্ড ঢাকাদক্ষিণ নামে প্রতিষ্ঠানটি। কার্যক্রমের সার্বিক দিক বিবেচনায় গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি তারিখে বোর্ডের নামকরণ করা হয় “সাবাহি মক্তব শিক্ষাবোর্ড ঢাকাদক্ষিণ”। শুরু থেকেই বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ইমাম সমিতির সভাপতি ও ঢাকাদক্ষিণ দারুল উলুম হুসাইনিয়া মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা খায়রুল আমিন আনওয়ারী ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন বায়তুল আমান নিশ্চিন্ত এর পরিচালক হাফিয নোমান মাহফুজ। পুরো ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে দাওয়াতি কার্যক্রমের মাধ্যমে মক্তব শিক্ষার মেহনত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে বৎসরে নেয়া হচ্ছে ষান্মাসিক ও কেন্দ্রীয় মক্তব পরীক্ষা। প্রথম বছর ২০২৫ সালের শুরুতেই বিভিন্ন মক্তবের সাড়ে ৩শ বাচ্চাদের নিয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের শুরুতেও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়নের ১২০টি মসজিদের মধ্যে মক্তব আছে ৩০/৩৫টির মতো মসজিদে। মক্তবশুণ্য মসজিদগুলোতে মক্তব প্রতিষ্ঠা, মক্তব শিক্ষকদের বেতন কাঠামো গঠন সহ বেশ কিছু উদ্দেশ্য নিয়ে বোর্ডটির কার্যক্রম পরিচালনায় আলেমদের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার প্রয়োজন মনে করেন কর্তৃপক্ষ।
বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছেন খর্দ্দাপাড়া পাঁচপীর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা আনোয়ার হোসেন হেলালী ও সহ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে উত্তর রায়গড় বড়গুল মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা ছফির উদ্দিন।
এছাড়া সহ সভাপতির দায়িত্বে নগর বড় মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফিয মাওলানা আবুল হারিছ, উত্তর রায়গড় বায়তুস সালাম জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা মাশুক আহমদ ও সুনামপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের অন্যতম দায়িত্বশীল মাওলানা আব্দুল করিম কাসেমী, সহ সাধারণ সম্পাদক পদে উত্তর রায়গড় চৈলতারতল জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা রায়হান উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক পদে মাওলানা আলিমুদ্দীন, প্রচার সম্পাদক পদে দক্ষিণ রায়গড় লেচুবাগান জামে মসজিদের সানী ইমাম হাফিয কয়েছ আহমদ, সহ প্রচার সম্পাদক পদে পশ্চিম খর্দ্দাপাড়া বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা জুবায়ের আহমদ, মক্তব বিষয়ক সম্পাদক পদে নগর ঈদগাহ মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা বিলাল আহমদ, সহ মক্তব বিষয়ক সম্পাদক পদে বায়তুল আমান নিশ্চিন্ত এর সহকারী শিক্ষক জাকারিয়া আহমদ, নির্বাহী সদস্য পদে মাহবুব হুসাইন জাকির, পশ্চিম রায়গড় বায়তুল হামদ মসজিদের ইমাম হাফিয ফয়সল আহমদ, মধ্য খদ্দর্াপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফিয মাওলানা রশীদ আহমদ, পশ্চিম দত্তরাইল জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা তোফায়েল আহমদ সিদ্দিকী, খদ্দর্াপাড়া পাঁচপীর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আশিক উদ্দিন, দত্তরাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা মুশাহিদ আলী, শাহজালাল রহ. মসজিদ মিশ্রপাড়ার মুয়াজ্জিন মাওলানা ইসমাইল আলী, উত্তর রায়গড় বায়তুস সালাম জামে মসজিদের সানী ইমাম মাওলানা জুনায়েদ আহমদ, আল নুর ইসলামিক একাডেমী ঝামিটিকি বাজারের পরিচালক মুফতি আফজল হুসাইন, দক্ষিণ নগর জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা হাম্মাদ হামিদী।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আনোয়ার হোসেন হেলালী বলেন, আমাদের সকলের নৈতিকতা, শিষ্টাচার এবং ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের গোড়া হচ্ছে সবাহী মক্তবগুলো। এখান থেকে আমরা দ্বীনের ব্যাসিক শিক্ষা লাভ করে থাকি। দেখা যায়, আমাদের অনেকেই মক্তবে ধর্মীয় যে শিক্ষাটা অর্জন করি এবং কুরআন যতটুকু অধ্যয়ন করি এর বাইরে জীবনের অন্যান্য অধ্যায়ে আর কখনো এগুলোর চর্চা হয়ে ওঠে না। জীবনের শুরু এবং শেষ ধর্মীয় শিক্ষাটা এই সকালের মক্তবগুলোই।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ মনে করেন, মসজিদ থেকে হারিয়ে যাওয়া মকতবগুলো ফিরিয়ে না আনলে প্রজন্ম হবে ধর্ম বিদ্বেষী। চিনবে না সরল সঠিক পথ ও মত। আদব—কায়দাহীন হবে তাদের অতীত বর্তমান ভবিষ্যত। মক্তবগুলো ফিরিয়ে আনুন। সকালের ঘুমকে হারাম করুন। আখেরাতকে পরিচ্ছন্ন রাখুন।
আপনার মতামত লিখুন :