

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-৬ আসন এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের জনপদজুড়ে নির্বাচনি উত্তাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে ভোটারদের প্রত্যাশাও। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী অধ্যুষিত এ অঞ্চলে উন্নয়ন, সুশাসন ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রশ্ন এবার আরও জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।
সিলেট-৬ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, এখানে ব্যক্তি ইমেজ ও তৃণমূল সংযোগ বড় ভূমিকা রাখে। দলীয় প্রতীক যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পায় প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মানুষের পাশে থাকার ধারাবাহিকতা। ফলে এবারের নির্বাচনেও দলীয় কৌশলের পাশাপাশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা চোখে পড়ার মতো।
এ আসনের আরেকটি বড় বাস্তবতা হলো প্রবাসী ভোটার ও তাদের পরিবারের প্রভাব। যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা অর্থনৈতিকভাবে যেমন এ অঞ্চলের চালিকাশক্তি, তেমনি রাজনৈতিকভাবেও তারা প্রভাব বিস্তার করেন। তাই প্রার্থীদের প্রচারণায় প্রবাসবান্ধব উন্নয়ন, বিনিয়োগের সুযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে প্রতিশ্রুতির ভিড়ে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরে আসে—বাস্তবায়ন কতটা? বিগত সময়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অনেকেই বলছেন, দৃশ্যমান উন্নয়ন হলেও টেকসই কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের অভাব রয়ে গেছে। তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ চায়।
নির্বাচনি পরিবেশ নিয়েও আলোচনা কম নয়। শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। প্রশাসনের তৎপরতা যেমন নজরে রয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে সহনশীলতা বজায় রাখা ও উসকানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে চলা।
সবশেষে বলা যায়, সিলেট-৬ কেবল একটি আসন নয়; এটি প্রবাসী-সমৃদ্ধ, ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় এক জনপদের প্রতিচ্ছবি। এখানে বিজয়ী হবেন একজন প্রার্থী, কিন্তু জিততে হবে মানুষের আস্থা। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়, তার বাস্তব রূপই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ।
সিলেট-৬ এর ভোটাররা এবার কেবল প্রতীক নয়, দেখছেন কর্ম, কথার সঙ্গে কাজের মিল এবং ভবিষ্যতের সুস্পষ্ট রূপরেখা।
আপনার মতামত লিখুন :