

যুগান্তর প্রতিবেদন: সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন দলটির একাংশের নেতা-কর্মীরা।
গত ৩ নভেম্বর মনোনয়নের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করে বিএনপি। ওই ঘোষণায় সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের মধ্যে ১৪টির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।
এই ঘোষণার পরও কয়েকটি আসনে মাঠ ছাড়েননি দলের অনেকেই। তারা ধানের শীষ না পেলেও প্রার্থী হবেন-এমন ঘোষণা দিয়ে মাঠে রয়েছেন। কয়েকটি আসনে তৃণমূলের দাবি প্রার্থী বদল-রিভিউর।
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার ৬ দিনের মাথায় স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতারা ওই আসনে প্রার্থী রিভিউ করার দাবি করেছেন।
তাদের দাবি, ২০১৮ সালের কঠিন পরিস্থিতির নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোট পেয়েছিলেন ফয়সল আহমদ চৌধুরী। এখন সুদিনে কেন ফয়সলকে বাদ দেওয়া হবে।
তৃণমূলের বড় একটি অংশ মনে করছে, ২০১৪ সালের গোলাপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়ে এমরান আহমদ চৌধুরী জামায়াতের প্রার্থীর কাছে তিনগুণ ভোটে পরাজিত হয়ে পঞ্চম হওয়া তার বর্তমান মনোনয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। নেতাকর্মীদের মতে এটি একটি স্পষ্ট সংকেত যে তিনি ভোটের রাজনীতিতে দুর্বল।
স্থানীয়রা জানায়, যিনি উপজেলায় জিততে পারেননি, তিনি জাতীয় নির্বাচনে কীভাবে দাঁড়াবেন?
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার কিছু ছবি ও বিতর্কিত আচরণ নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে নিজ এলাকার কর্মীদের সঙ্গে মাঠে না নামিয়ে তিনি অন্য উপজেলা থেকে লোক এনে প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছেন। ফলে তৃণমূলের সঙ্গে তার দূরত্ব আরও প্রকট হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা মনে করেন, সিলেট-৬ অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন। জামায়াত এখানে শক্তিশালী প্রার্থী দিয়েছে। তাই প্রার্থী নির্বাচনে ভুল হলে এর মূল্য দলকে দিতে হবে।
এদিকে রিভিউ দাবির দুদিন পর রোববার হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন এমরান।
তৃণমূলে বিদ্রোহ, বিক্ষোভ, রিভিউর পর রিভিউ দাবিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন একটি খোলা চিঠিতে।
চিঠিতে তিনি বলেছেন, ৩ নভেম্বরের আগে আমার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপপ্রচার হয়নি। অথচ আমি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কতিপয় রাজনৈতিক লেবাসধারী ব্যক্তি আড়াল থেকে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। তাই আমি বিশ্বাস করি, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। আর ফ্যাসিস্টদের সুবিধাভোগীরা নানা ষড়যন্ত্র করবেই, কিন্তু দিনশেষে সত্যের বিজয় হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা ভেসে যাবে।
আপনার মতামত লিখুন :