

বরখাস্তের ঝুঁকিতে আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান শিশু
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা এবং দেশের বাইরে অবস্থান করায় বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশু বরখাস্তের মুখে পড়তে পারেন। সম্প্রতি তিনি কানাডা থেকে দেশে ফিরলেও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, দেশে ফেরার পর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগ্রহ প্রকাশ করলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আপাতত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এ অবস্থায় প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মনিরুজ্জামান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
তবে চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশু দাবি করেছেন, তাকে এখনো বরখাস্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক কারণে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে। মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অনুমতি ছাড়া কানাডায় গিয়েছিলাম। এ কারণে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা আমি মেনে নেব। দেশে ফিরে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি।”
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে একটি পত্র পাঠিয়েছেন। পত্রে উল্লেখ করা হয়, বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মতামতের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪)(জ) ধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। উক্ত ধারায় কোনো চেয়ারম্যান বা সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত কিংবা চূড়ান্তভাবে অপসারণের বিধান রয়েছে।
সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশু গত ১৮ মার্চ কাউকে অবহিত না করেই দেশত্যাগ করেন। তিনি নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, “আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই চেয়ারম্যান অফিসে এসে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বললেও তিনি বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে চাইছেন। জন্ম নিবন্ধন সংশোধনসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার ওটিপি ও প্রয়োজনীয় তথ্যও তিনি অফিসকে অবহিত করছেন না, ফলে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।”
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে আলীনগর ইউনিয়নের জনসাধারণ ও প্রশাসন।
আপনার মতামত লিখুন :