

অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশে অনলাইন বেটিং (জুয়া) ও অবৈধ অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) এর সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস শাখার একটি বিশেষ আভিযানিক দল চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন ফটিকছড়ির জিলতলী এলাকার মো. আলা উদ্দিন (৪২), মীরসরাইয়ের কুরুয়া এলাকার শাহাদাৎ হোসেন (৩২) এবং নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঁশবাড়ী এলাকার মো. সাহাব উদ্দিন (৪৮)।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও চেকবই উদ্ধার করা হয়।
সিআইডি সূত্র জানায়, সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় দেখতে পায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইট বাংলাদেশে অবৈধভাবে পরিচালনা করছে। এসব সাইটে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা-বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেন চলছিল।
এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তে উঠে আসে, দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানরত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জুয়ার সাইটের প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে অনলাইন বেটিং পরিচালনা করা হতো।
তদন্তে আরও জানা যায়, ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে তাদের বেটিং অ্যাকাউন্টে ই-মানি বা বট মানি যুক্ত করা হতো। পরে সেই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, চক্রটি নিয়মিত বিভিন্ন এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন করত এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এসব হিসাব সংগ্রহ করা হতো। টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সেগুলো জুয়ার সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে সরবরাহ করা হতো।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থ লেনদেন চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। তাদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হচ্ছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। একই সঙ্গে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :