

মন্ত্রী হয়ে বৃহস্পতিবার সিলেট ফিরেছেন আরিফুল হক চৌধুরী। সিটি করপোরেশনের কমিশনার দিয়ে জনপ্রতিনিধির তালিকায় নাম লেখানো আরিফ এখন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী। কমিশনার থেকে মন্ত্রী। এর মধ্যে ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) দুইবারের মেয়র।
এবার সিলেট-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাাচিত হয়ে পেয়েছেন প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই উত্থানে আরিফ ভুলেননি তাঁর দুই ‘গুরু’কে। একজন রাজনৈতিক ‘গুরু’, আরেকজন আধ্যাত্মিকতার। প্রথম সফরেই তিনি কার্যতালিকায় রেখেছেন ‘রাজনৈতিক গুরু’ সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত।
এছাড়া সফরকালে তিনি সাক্ষাত করবেন ‘আধ্যাত্মিক গুরু’ শ্রীমঙ্গলের বরুনার পীরসাহেব মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভীর সাথে।
৫ দিনের সফরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা থেকে ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে বিপুলভাবে সংবর্ধিত করেন। এসময় তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘কারো প্রতি বৈরি মনোভাব নয়, সবাইক সঙ্গে নিয়ে এই দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। আমাদের প্রতি মানুষের যে আশা-প্রত্যাশা, আমরা মানুষকে যে ওয়াদা দিয়েছি তা যথাযথভাবে পূরণের চেষ্টা করবো।’
আরিফ বলেন, ‘আমার হাতে অনেক কাজ। কিন্তু সময় বেশি নেই। পাঁচ বছর সময় দেখতে দেখতেই চলে যাবে। তাই এখন থেকই আমাকে কাজ শুরু করতে হবে।’
এদিকে, বৃহস্পতিবার সিলেট ফিরলেও কোন কর্মসূচি রাখেননি আরিফুল হক চৌধুরী। আজ শুক্রবার তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করে সেখানেই জুমার নামাজ আদায় করবেন। বিকেলে দক্ষিণ সুরমা বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিবেন তিনি। শনিবার সকালে মৌলভীবাজারে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। পরে বরুনা মাদ্রাসা পরিদর্শন ও পীরসাহেব রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন।
দুপুরে কমলগঞ্জে দাদা-দাদীর কবর জিয়ারত করে সিলেট নগরীস্থ বাসায় ফিরবেন। রবিবার সারাদিন তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন। সোমবার ফিরবেন ঢাকায়।
এম. সাইফুর রহমান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী থাকাকালে সিলেটের ছায়ামন্ত্রী ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। ওই সময়ই তিনি সিসিকের ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হন। কমিশনার হলেও তার দাপট ছিল মন্ত্রীর। তৎকালীন মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে পাশ কাটিয়ে তিনি সাইফুর রহমানের আর্শিবাদ নিয়ে সিলেটে ব্যাপক উন্নয়ন কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন।
মূলত সাইফুর রহমানের ছায়াসঙ্গী হয়ে সিলেটের উন্নয়ন করায় নগরবাসী পরবর্তীতে তাকে দুইবার মেয়র নির্বাচিত করে। আর সেই উন্নয়নের যাদুতেই তিনি এবার নগর থেকে সীমান্ত জনপদ সিলেট-৪ আসনে গিয়ে ভোটের মাঠে বাজিমাত করে বিজয়ী হন।
মন্ত্রী হয়ে তিনি সিলেট ফিরে সবার আগে ছুটে যাচ্ছেন তাঁর ‘রাজনৈতিক গুরু’ সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারাতে। সেই সাথে একই দিনে তিনি সাক্ষাত করবেন তার ‘আধ্যাত্মিক গুরু’ বরুণার পীরসাহেব মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভীর সাথে। আরিফের এই ‘গুরু সম্মান’ সিলেটবাসীর কাছে প্রশংসিত হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :