

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ:
গোলাপগঞ্জ এখন ভারতীয় চোরা পণ্যের মধ্যবর্তী রুট হিসেবে নতুনভাবে চিহ্নিত হয়ে উঠছে। সীমান্ত থেকে দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, অচেনা লেন, রাতের অন্ধকার ও দ্রুত সংযোগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা গোলাপগঞ্জকে ‘নিরাপদ ট্রানজিট পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পণ্য দেশে প্রবেশের পর দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য গোলাপগঞ্জ হয়ে সিলেট শহর ও আশপাশের বাজারগুলোতে চোরাই মাল পাচার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো: আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা এ বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়েছি, টহল টিম চেকপোস্ট জোরদার করেছি, চোরা চালান ও চোরাই পণ্য ঠেকাতে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
গত ২৯ নভেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬৫ ইবি কৈলাশ টিলা গ্যাস ফিল্ডের আর্মি ক্যাম্পের মেজর ইমরান আল জিহাদের নেতৃত্বে একটি টহল টিম বিশেষ অভিযান চালায়।
বিয়ানীবাজারের চারখাই থেকে ছেড়ে আসা গোলাপগঞ্জগামী একটি মিনি পিকআপ চৌঘরী বাজার সংলগ্ন নূরজাহান সিএনজি পাম্পের সামনে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় পিকআপে ভারতীয় ১,০০০ কেজি চা-পাতা পাওয়া যায়। পিকআপসহ চালক মো. জাহাঙ্গীর (৩২)-কে আটক করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
অনেকে মনে করেন, গোলাপগঞ্জ সীমান্তঘেঁষা না হলেও এর শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও দ্রুত বিচ্ছিন্ন সড়কের ব্যবহারযোগ্যতা চোরাইপণ্যের জন্য জায়গাটি ‘ঝুঁকিমুক্ত ট্রানজিট পয়েন্টে’ পরিণত করেছে। এতে সরকারের রাজস্ব কমছে এবং স্থানীয় বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
গোলাপগঞ্জের সচেত নাগরিকদের দাবি, কঠোর অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং রাতের টহল বাড়ালে এই উপজেলাকে চোরা চালানের রুট হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন :