বিলুপ্তির পথে আমাদের ঐতিহ্যের ‘মুর্তা গাছ’


admin প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১০, ২০২৫, ০২:২১ /
বিলুপ্তির পথে আমাদের ঐতিহ্যের ‘মুর্তা গাছ’

– সৈয়দ মবনু –

সৈয়দপুরে আমাদের বাড়ির পিছনে একসময় প্রচুর মুর্তা গাছ ছিল। এখনো কিছু গাছ টিকে রয়েছে। বাংলাদেশে মুর্তা গাছকে কেউ বলেন পাটিবেত, কেউ পাটিপাতা, আবার কেউ মুস্তাক—নানা অঞ্চলে নানা নামে পরিচিত এই গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Schumannianthus dichotomus (শু-ম্যানি-অ্যান্থাস ডাই-কটোমাস)।

মুর্তা বাংলাদেশে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, নোয়াখালী, বরিশাল, কুমিল্লা ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার এবং আসামের কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকভাবেই জন্মে, আবার বিভিন্ন জায়গায় মানুষ চাষও করে। মুর্তার বেত দিয়ে তৈরী হয় বিখ্যাত শীতল পাটি—বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতের ঐতিহ্যবাহী এক ধরনের বিছানার মাদুর, যা তার শীতল স্পর্শ, নকশা ও কারিগরি সৌন্দর্যের জন্য প্রসিদ্ধ।

আমরা ছোটবেলা গ্রামে গেলে যে ঘটিটালা খেলতাম যেখানে মুর্তা পাতার বেশ গুরুত্ব ছিলেো। কখন তাকে টাকার পরিচয়ে দেখা হতো, কখনও অন্যকিছু। যেহেতু মুর্তা গাছ হতো প্রচুর, তাই এগুলো কেটে নষ্ট করলেও বাবা-চাচা বা মা-চাচী ধমক দিতেন না। আমরা এগুলো কেটে ঘরও তৈরি করতাম। আম্মা গ্রাম থেকে আসার সময় মুর্তা গাছ নিয়ে আসলে আবার আম্মার কাছে এগুলোর মূল্য অনেক হয়ে যেত, হাত দিতে সাহস পেতাম না। তিনি নোটিশ দিতেন; ‘আমার মুর্তায় কেউ হাত দিলে হাত ভেঙে দেবো।’ তিনি অবসরে বেত উঠাতেন এবং শিতল পাটি তৈরি করতেন।

মুর্তার বেত দিয়ে এক সময় মাটির ঘর বাধতে সুতলির কাজে আসতো। প্রচুর প্রয়োজন ছিলো এই গাছের, হতোও প্রচুর। আজ হয়তো প্রয়োজন ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে ফলনও কমে যাচ্ছে। হয়তো এক সময় নাই হয়ে যাবে।


ছবিতে যে মুর্তা বাগানে আমি দাঁড়িয়ে আছি, সেটি সুনামগঞ্জ জেলার জাউয়া এলাকার উত্তর কুরসি গ্রামে অবস্থিত। ছবিটি তুলেছেন সৈয়দ মাসুদ।