বায়তুল আমানের হুফফায সম্মাননা এবং হাফিযে কুরআন…


admin প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৫, ২০২৫, ০৮:৪১ /
বায়তুল আমানের হুফফায সম্মাননা এবং হাফিযে কুরআন…
মেধার স্বীকৃতি হিসেবে সম্মানী দেওয়া জায়েজ এবং অপরিহার্য্য কর্তব্য। সম্মানী দেওয়াটা মুলত কুরআন তিলাওয়াত, মুখস্থ করণ, জ্ঞানচর্চার বা দ্বীনী কাজের প্রতিদান নয় বরং এটা মেধার স্বীকৃতি। এর মূল পুরষ্কার ব্যক্তি আখিরাতে অর্জন করবে ইনশাআল্লাহ। আমাদের সমাজে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কাউকে সম্মানিত করাটা মানুষ অহেতুক কাজ মনে করে। অথচ জাগতিক অর্জনে সম্মানীর জন্য ইসলাম বিদ্বেষী আয়োজন করতেও দ্বিধাবোধ করে না। হাফেজে কুরআনের মর্যাদা অনেক বেশি। তারা আল্লাহর বিশেষ বান্দা এবং আল্লাহর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকে আল্লাহ বিশেষভাবে সম্মান করেন। হাফেজরা তাদের স্মৃতিতে থাকা কোরআনের মাধ্যমে অন্যের জন্য সুপারিশ করতে পারবেন এবং কিয়ামতের দিন উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হবেন। একজন আলেম, হাফিয, মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় শিক্ষক, দাঈ, ওয়ায়েজ প্রমূখ ব্যক্তিগণ তাদের দীনী কার্যক্রমের বিনিময়ে বেতন/পারিশ্রমিক গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুরষ্কার, অর্থকড়ি, সার্টিফিকেট ও সম্মাননা গ্রহণ করেন। কিন্তু এগুলো তাদের সৎকর্মের বিনিময় নয় বরং তাদের কষ্ট, পরিশ্রম ও মেধার সামান্য মূল্যায়ন এবং পারিশ্রমিক মাত্র। আখিরাতে তিনি মহান আল্লাহর নিকট প্রকৃত সওয়াব (প্রতিদান) লাভ করবে।
দীনের কাজের প্রচার—প্রসার এবং কল্যাণকর কাজের জন্য মানুষকে উৎসাহ দান করা সদকায়ে জারিয়ার শামিল। কিন্তু এ সব কাজের প্রকৃত পুরস্কার পাবেন আখিরাতে মহান আল্লাহর দরবারে। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
২০২১ সালে বায়তুল আমান নিশ্চিন্ত (সাবাহি মক্তব) প্রতিষ্টা লাভ করে। এরপর থেকে মক্তব শিক্ষার পাশাপাশি আলেম, হাফিয এবং দ্বীনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফিকির ও কাজের চেষ্টা করে যাচ্ছি। এর অংশ হিসেবে গ্রামের হাফিয সাহেবদের জন্য হুফফায সম্মাননার আয়োজন। পর্যায়ক্রমে আলেমদের নিয়েও ফিকির করবো। এবং বিভিন্ন সেক্টরে অবদানের জন্য সম্মাননার চিন্তা রয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ! এসব কাজ করতে যেয়ে আমার আল্লাহ আমাকে কখনো নিরাশ করেননি। কোন না কোনভাবে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এজন্য আল্লাহর যেসকল নেক বান্দা বান্দি আমার ডাকে সাড়া দিয়েছেন, সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আল্লাহ তাআলা সকলের দ্বীন ও দুনিয়ায় উত্তম বদলা দান করুন। আমিন…
এলাকার হাফিয সাহেবদেরকে আগামী ২৩ জানুয়ারী শুক্রবার বিকাল ৩টার সময় সম্মাননা প্রদানের আয়োজন করেছে বায়তুল আমান। আল্লাহ তাআলা কবুল করুন।
হাফিযে কুরআন কেন সম্মানিত:—
কারণ তারা…
আল্লাহর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোরআন তিলাওয়াতকারীরা আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশেষ বান্দা’।
কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী: কিয়ামতের দিন হাফেজরা তাদের পাঠ করা কোরআনের মাধ্যমে সুপারিশ করার সুযোগ পাবেন।
জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরের অধিকারী: যে ব্যক্তি সম্পূর্ণ কোরআন পড়েছে, সে জান্নাতের সর্বশেষ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যাবে।
শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি: সর্বোত্তম ব্যক্তি তিনিই, যিনি নিজে কোরআন শিখেন এবং অন্যকে শিক্ষা দেন।
কুরআনের বিশুদ্ধতা রক্ষা: আল্লাহ হাফেজদের মাধ্যমে কোরআনের বিশুদ্ধতা রক্ষা করেন, কারণ তারা মুখস্থ থেকে সম্পূর্ণ কোরআন সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন।
শয়তানের সুরক্ষা: একজন হাফেজ শয়তানের ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকেন, এবং তাদের ঘরও নিরাপদ থাকে।
দ্বিগুণ সওয়াব: কোরআন হিফজ করার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব লাভ করা যায়।
সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহারকারী: হাফেজরা সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহারকারী হিসেবে বিবেচিত হন।
পবিত্র কোরআন হিফজ করা, চর্চা করা এতটাই ফজিলতপূর্ণ কাজ যে, রাসুল (স.) তার হিফজকারীদের ফেরেশতাদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (স.) থেকে বর্ণনা করেছেন, কোরআনের হাফেজ পাঠক লিপিকর সম্মানিত ফেরেশতাদের মতো। খুব কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও যে বারবার কোরআন পাঠ করে, সে দ্বিগুণ পুরস্কার পাবে। (বুখারি: ৪৯৩৭)
দুনিয়াতে যারা কোরআন শিখবে এবং কোরআন অনুযায়ী আমল করবে, হিফজ করবে, কিয়ামতের দিন তাদের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) বলেছেন, কোরআন কেয়ামত দিবসে হাজির হয়ে বলবে, হে আমার প্রভু, একে (কোরআনের বাহককে) অলংকার পরিয়ে দিন। তারপর তাকে সম্মান ও মর্যাদার মুকুট পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রভু, তাকে আরো পোশাক দিন। সুতরাং তাকে মর্যাদার পোশাক পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রভু, তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। কাজেই তিনি তার ওপর সন্তুষ্ট হবেন। তারপর তাকে বলা হবে, তুমি একেক আয়াত পাঠ করতে থাকো এবং ওপরের দিকে উঠতে থাকো। এমনিভাবে প্রতি আয়াতের বিনিময়ে তার একটি করে সওয়াব (মর্যাদা) বাড়ানো হবে। (তিরমিজি: ২৯১৫)
পবিত্র কোরআন হেফজ করতে পারা আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত সমূহের মধ্যে অন্যতম। এই নেয়ামতের ব্যাপারে ঈর্ষা করাও জায়েজ। রাসুল (স.) বলেছেন, দুই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে ঈর্ষা করা যায় না। এক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তাআলা কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং সে তা দিন—রাত তেলাওয়াত করে। আর তা শুনে তার প্রতিবেশীরা বলে, হায়! আমাদের যদি এমন জ্ঞান দেওয়া হতো, যেমন অমুককে দেওয়া হয়েছে, তাহলে আমিও তার মতো আমল করতাম। অন্য ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং সে সত্য ও ন্যায়ের পথে সম্পদ খরচ করে। এ অবস্থা দেখে অন্য এক ব্যক্তি বলে, হায়! আমাকে যদি অমুক ব্যক্তির মতো সম্পদ দেওয়া হতো, তাহলে সে যেমন ব্যয় করছে, আমিও তেমন ব্যয় করতাম।’ (বুখারি: ৫০২৬)
কেয়ামতের দিন কোরআনের হাফেজদের মা—বাবাকে বিশেষ সম্মান দেবেন আল্লাহ তায়ালা। এ বিষয়ে হজরত সাহল ইবনু মুআজ আল—জুহানি (রহ.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন— রাসুল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করে এবং তা অনুযায়ী আমল করে, কেয়ামতের দিন তার মা—বাবাকে এমন মুকুট পরানো হবে যার আলো সূর‌্যের আলোর চেয়েও উজ্জ্বল হবে। ধরে নাও, যদি সূর্য তোমাদের ঘরে বিদ্যমান থাকে (তাহলে তার আলো কিরূপ হবে?)। তাহলে যে ব্যক্তি কোরআন অনুযায়ী আমল করে তার ব্যাপারটি কেমন হবে, তোমরা ধারণা করো তো!’ (আবু দাউদ: ১৪৫৩; শুআবুল ঈমান: ১৭৯৭)
নবীজি (স.) সাহাবায়ে কেরামকে কোরআনের ধারক—বাহকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। যারা ৩০ পারা কোরআন হেফজ করে তা ধরে রাখে, তার ওপর আমল করে, তারাও সেই সম্মানের যোগ্য। আবু মুসা আল—আশআরি (রহ.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, নিশ্চয়ই বৃদ্ধ মুসলিমকে সম্মান করা, কোরআনের ধারক—বাহক ও ন্যায়পরায়ণ শাসকের প্রতি সম্মান দেখানো মহান আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।’ (আবু দাউদ: ৪৮৪৩)।
হাফিয নোমান মাহফুজ
পরিচালক
বায়তুল আমান নিশ্চিন্ত (সাবাহি মক্তব)