পানি জাহাঙ্গীর-এর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার অর্থপাচার মামলা


admin প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ১০:৫১ /
পানি জাহাঙ্গীর-এর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার অর্থপাচার মামলা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তরের প্রাক্তন পিয়ন জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ‘পানি জাহাঙ্গীর’-এর বিরুদ্ধে একশ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উল্লেখযোগ্য প্রমাণ মেলায় নোয়াখালীর চাটখিল থানায় মামলা নং–১১, তাং–৩১/১০/২০২৫ খ্রি. দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ধারা ৪(২)(৪) অনুযায়ী দায়ের করা হয়েছে।

সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান জাহাঙ্গীর আলম জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। পরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে স্বল্প সময়ের জন্য ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই দায়িত্বই তাকে আর্থিকভাবে লাভবান করেছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

২০১০ সালে তিনি ‘স্কাই রি অ্যারেঞ্জ লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে বিকাশের ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবসা শুরু করেন। তবে এর আড়ালে তিনি সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেন চালাতেন। কোম্পানির নামে খোলা একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ জমা হয়, যার কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি এবং ব্যবসার পরিধির সঙ্গে যার সামঞ্জস্য নেই।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৬৫ কোটিরও বেশি টাকা লেনদেন হয়েছে। এর বড় অংশ নগদে জমা হয় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। এসব টাকার উৎস অজানা এবং প্রাথমিকভাবে হুন্ডি ও মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এছাড়া, জাহাঙ্গীর আলম তার স্ত্রী কামরুন নাহার ও ভাই মনির হোসেনের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অর্থ লেনদেন করতেন। ২০২৪ সালের জুন মাসে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং বর্তমানে ভার্জিনিয়ায় অবস্থান করছেন। বিদেশে তাদের বিনিয়োগ বা সম্পদ ক্রয়ের কোনো সরকারি অনুমোদন না থাকলেও তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন বলে সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে, জাহাঙ্গীর আলম, তার স্ত্রী কামরুন নাহার, ভাই মনির হোসেন এবং প্রতিষ্ঠান স্কাই রি অ্যারেঞ্জ লিমিটেড যৌথভাবে ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।