আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনে কোনো দুঃশাসন ছিল না শেখ হাসিনার আইনজীব


admin প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২০, ২০২৫, ১৬:৩৭ /
আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনে কোনো দুঃশাসন ছিল না শেখ হাসিনার আইনজীব

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকালে দেশের শাসন ব্যবস্থায় কোনো দুঃশাসনের ঘটনা ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী মো. আমির হোসেন। সোমবার (২০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে তিনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে বলেন, এই দীর্ঘ সময়কালে সরকারের শাসন কার্যক্রমে অনেক ইতিবাচক উন্নয়ন এবং সফল উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেছে।

এদিন দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া শুনানিতে, বিচারিক প্যানেলের সামনে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন মো. আমির হোসেন। তিনি বলেন, “প্রসিকিউশন আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনকালকে দুঃশাসন এবং ফ্যাসিবাদ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে কোনো সময়ই সুশাসনের কোনো দিক তুলে ধরা হয়নি। যদি তারা সুশাসনের কিছু ইতিবাচক উদাহরণ দেখাত, আমি হয়তো এক বাক্যে এসব মেনে নিতাম। কিন্তু তাদের বক্তব্যে তা ছিল না, তাই আমি তাদের বক্তব্য মেনে নিতে পারছি না।”

আইনজীবী আরও বলেন, “একটি পরিবার বা দেশের প্রধান যেকোনো দায়িত্বশীল পদে থাকলেও কিছু ভুলত্রুটি স্বাভাবিক। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একজন প্রধানের ওপর অনেক দায়িত্ব চাপা থাকে। সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করতে গিয়ে কিছু ভুলত্রুটি ঘটতে পারে। ভালো উদ্যোগও কখনও অনাকাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারে।”

তিনি দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে, মেট্রোরেল প্রকল্প, পদ্মাসেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার প্রচেষ্টা অনেকটা সফল হয়েছে। আমির হোসেন বলেন, “যদি এসব সফল কর্মকাণ্ডকে দুঃশাসন বলা হয়, তাহলে সুশাসন বলতে কী বোঝায় আমি জানি না। ফ্যাসিবাদের শব্দটি মূলত একটি ব্যক্তিগত ও পরিকল্পিত বয়ান।”

প্রসিকিউশনের অভিযোগ—বিচারবহির্ভূত হত্যা, খুন-গুম, বেআইনি আটক, মিথ্যা মামলা ও অপহরণ—সম্পর্কেও তিনি বলেন, “এগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করছি। এসব অভিযোগ আমি একমত নই। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়, এবং সেই প্রক্রিয়ায় কিছু ভুলত্রুটি স্বাভাবিক। বিশ্বের বিভিন্ন উদাহরণও এই কথাকে সমর্থন করে।”

তিনি আরও বলেন, “একটি দেশ পরিচালনা বা শাসন ব্যবস্থা সবসময় নিখুঁত হবে এমন কথা নয়। তাই আদালতই ঠিক করবেন কোনটা সঠিক, কোনটা বেঠিক বা কতটুকু ভুল হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যেভাবে আনা হয়েছে, তা একটি ব্যক্তিগত ও পক্ষপাতমূলক বক্তব্যের অংশ মাত্র। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা একটি সরকারকে অপসারণের উদ্দেশ্যই মূলত এই বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত।”

আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক প্রথম দিনই শেষ হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন প্যানেল আগামীকাল (২১ অক্টোবর) পুনরায় আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করবেন।