

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৬ নং ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড নগর গ্রামের মৃত নজির উদ্দিনের ছেলে শহীদ মানিক উদ্দিনের পরিবার দীর্ঘ ৫৩ বছর পর মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেয়েছেন।
পেরিয়েছে স্বাধীনতার ৫৩ বছর, গড়িয়েছে অজস্র চোখের পানি পরিবারের।তার সঙ্গী প্রায় সব শহীদ সহযোদ্ধাই পেয়েছেন বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব। কিন্তু সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার পরেও খেতাব পাননি তিনি। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, মুক্তিযুদ্ধের পর গত ৫৩ বছরে তার পরিবার ন্যূনতম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতিটুকু পাননি শহীদ মানিক উদ্দিন এর পরিবার। দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী এই শহীদ এর অবসানের কথা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হলেও পরে কেউ খবর নেয়নি পরিবারটির।
তবে স্বাধীনতার ৫৩ বছর গত ৩ ডিসেম্বর পরিবারের হাতে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও ভাতা তুলে দেন ঢাকাদক্ষিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহীদ মানিক উদ্দিন ১৯৬৯ সালে পুলিশে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে যোদ্ধ শুরু হলে তিনি বগুড়া জেলাতে মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, সেখানেই পাক হানাদারদের গুলিতে নিহত হন। তবে অবশেষে তার পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ৫৩ বছর পর ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন শহীদ মানিক উদ্দিন।
এ বিষয়ে যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক বীর প্রতিক বলেন, মানিক আমার বাতিজা, পাকিস্থান আমলে সে পুলিশে নিয়োগ পায়। যোদ্ধ চলাকালীন মানিক ১৯৭১ সালে বগুড়াতে মারা যান। শহীদ হওয়ার ৫৩ বছর পর ও কোন ভাতা বা স্বীকৃতি ও মুক্তিযোদ্ধা সনদ পান নি। আমি উদ্যোগ নিয়ে ৫৩ বছর পর তাহার ভাতা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি ও ভাতার ব্যবস্থা করি। মুক্তিযুদ্ধে মানিক উদ্দিন এর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মানিক উদ্দিনের ৫ বোন এর মধ্যে গুলজার বেগম বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী টানা কয়েকটি বছর বগুড়াতে লাশের সন্ধান চলে, আত্মীয়–স্বজন হন্যে হয়ে খুঁজে কোনো হদিস পায়নি। তখন দেশ স্বাধীন হওয়ার কিছুদিন পর টেলিগ্রামে খবর আসে তিনি শহীদ হয়েছেন। তারপর থেকে আমরা আর কোন সনদ বা ভাতা কিছু পাইনি। আমি অভিভূত, আপ্লুত! ৫৩ বছর পর স্বীকৃতি! পেয়েছি। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের চাচা আব্দুল মালেক বীর প্রতিক প্রশংসার দাবিদার; তিনির নিবিষ্ট আন্তরিকতার জন্য। এ এক বিরল অভিজ্ঞতা, পরম শান্তির।’
আরেক বোন রোশনা বেগম বলেন, আপনজন হারানোর ব্যথাটুকু ভুলে গেছি দেশের স্বাধীন লাল সূর্যটুকু দেখে। কিন্তু শূন্যতাতো পূরণ হওয়ার নয়। অনেক প্রতিকূলতার মাঝে আমরার পরিবারের ৫ বোন ও আরেক ভাই দীন কাটিয়েছি। রাষ্ট্রীয়ভাবে সাহায্য–সহযোগিতা তো দূরের কথা সামান্যতম সহানুভূতিটুকুও পাইনি আমরা।
আমরা খুব খুশি আমাদের ভাই শহীদ হওয়ার ৫৩ বছর পর আমরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেয়েছি। আমরা বিশেষ করে ধন্যবাদ জানাই যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক বীর প্রতিক চাচাকে তিনি সহযোগিতা করে আমাদের ভাই এর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি ব্যবস্থা করেছেন। আমাদের দুঃখ মা বাবা ভাই যদি জীবিত থাকতেন এই স্বীকৃতি ও সনদ পেতেন তারা খুব খুশি হতেন।
প্রতিবেশী আব্দুল খালিক বলেন, আমাদের গ্রামের ছেলে মানিক উদ্দিন স্বাধীনতার যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন ৫৩ বছর পর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিবার স্বীকৃতি পেয়েছে এতে আমরা খুশী।
৬ নং ঢাকাদক্ষিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, অনেক বছর পরে হলেও তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন। এটা আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী শামসুদ্দিন আহমেদের পরিবারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
আপনার মতামত লিখুন :