কানাইঘাটে আপন চাচাতো ভাইকে জবাই করে হত্যার পর সিগারেট টানতে থাকে বখাটে যুবক


admin প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৮, ২০২৪, ০৯:৩০ /
কানাইঘাটে আপন চাচাতো ভাইকে জবাই করে হত্যার পর সিগারেট টানতে থাকে বখাটে যুবক

কানাইঘাটে আপন চাচাতো ভাইকে জবাই করে হত্যার পর সিগারেট টানতে থাকে বখাটে যুবক
—————————————————————
কানাইঘাট উপজেলায় খুনের ঘটনা বাড়ছে। কিছুদিন পর পর শুনা যায় খুনের সংবাদ। আজ একজন নিহত হলেন। এই ঘটনার রুপ আরেক রকম। আপন চাচাতো ভাইকে জবাই করে বা গলা কেটে হত্যার পর সিগারেট টানতে থাকে বখাটে যুবক। কী ভয়ংকর! ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৭ নং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের হালাবাদি চতুর্থ খন্ড মৌজায় বা বাউরভাগ নয়াগাউ গ্রামে। এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগের সমর্থক ৪৮ বছর বয়সী সুলতানের হাতে নিহত হন তারই আপন চাচাতো বড় ভাই ৬৫ বছর বয়সী হুসন আহমদ। তিনি নিজ মহল্লার মসজিদের মুতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।

জানা যায়, নয়াগাউ নিবাসী নিবাসী আব্দুল লতিফ (লতই) এর ছেলে হুসন আহমদের সাথে আব্দুল জলিল (জলই) এর ছেলে সুলতান ও তার পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিলো। এরই প্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার (০৮/১১/২০২৪) ফজরের নামাজের পর সুলতান কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয় হুসন আহমদের সাথে। বখাটে সুলতান তার চাচাতো ভাইকে গালিগালাজ করে। অশ্রাব্য ও অশ্লীল গালিগালাজের কারণে হুসন আহমদ লজ্জায় থেমে যান। তিনি ভেবেছিলেন, থেমে যাওয়ার ফলে বখাটে সুলতান হয়তো চলে যাবে। কিন্তু সুলতানের মাথায় খুনের নেশা। হুসন আহমদ থেমে গিয়ে যখন চলে যাচ্ছিলেন তখন আনুমানিক সকাল ৬ টার সময় প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে পেছন দিক থেকে এসে ধারালো দা দিয়ে কুপাতে থাকে খুনি। বখাটে সুলতান দা দিয়ে হুসন আহমদের গলায় কোপ দিতে থাকে, অন্যকথায়- বাড়ির আঙিনায় দা দিয়ে জবাই করেছে। এতে গলা থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন হুসন আহমদ। গরু জবাই করার পর যেরকম ফিনকি রক্ত ঝরে, সেভাবে ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরেছে হুসন আহমদের গলা থেকে। কোন মানুষ এভাবে কাউকে খুন করতে পারে না। সুলতান মানুষ নয়, পশু, ইতর, বেজন্মা। কমেন্ট বক্সে একটা ছবি দিলাম, ঘটনার ঘন্টা দেড়েক পরে উঠানো, সাদা কাপড় দিয়ে মোড়ানো লাশ, সেই সাদা কাপড়ে লাশ থেকে রক্ত কিভাবে বেরিয়ে এসেছে বুঝা যাবে।

হুসন আহমদ প্রতিরোধ গড়ে তুলা বা আত্মরক্ষার সময়টুকুও পাননি। কারণ তিনি অপ্রস্তুত থাকা অবস্থায় খুবই দ্রুত ধারালো দা দিয়ে তাকে জবাই করে ফেলে বখাটে সুলতান। ঘটনার পর পর যারা বাড়িতে গিয়ে লাশ সরাসরি দেখেছেন, তাদের অনেকে জবাই করা লাশ একবার দেখে দ্বিতীয় বার দেখার সাহস পাননি। জবাই করা লাশের ছবি আমি দ্বিতীয় বার দেখার সাহস পাইনি। কিন্তু জবাই করার পরও খুনি সুলতান ছিলো ঠাণ্ডা মাথায়, বেপরোয়া। তার ধারণা, তার কিছুই হবে না। পার পেয়ে যাবে। অতীতে নানা আকাম করার পরও সে পার পেয়ে গেছে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সমর্থক হওয়ার কারণে। অনেকের সাথে মারামারিতে লিপ্ত হওয়ার তার অতীত রেকর্ড রয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় সুলতান অন্যায়কারী হিসেবে থাকলেও তার পরিবার এবং সুলতানের আপন ফুফাতো ভাই সিরাজ মাষ্টার-সহ আরো কিছু লোক সব সময় তাকে প্রশ্রয় দিয়ে থাকে মারামারি ও খারাপ কাজে। সিরাজ মাষ্টার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় তিনি তার বখাটে মামাতো ভাই সুলতানের আকাম-কুকামে প্রশ্রয় দিতেন এবং অন্যায় করলেও সিরাজ মাষ্টারের শেল্টারে সুলতানের কিছু হতো। শুনা যাচ্ছে, সুলতানের কিছু লোক এখনই চেষ্টা-তদবির ও বাঁদরামী শুরু করেছে- খুনের ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য এবং সুলতানকে রক্ষা করার জন্য। কারণ, খুনের ঘটনাটির দায় কেবলই সুলতানের একার নয়, হুসন আহমদের সাথে বিরোধ জিইয়ে রাখার ক্ষেত্রে সুলতানকে ইন্ধন দিয়ে আসছিলো তার পরিবারের লোক এবং আরো কিছু লোক। সুলতানকে রিমান্ডে নিলে এসব বেরিয়ে আসবে। তাকে যেন রিমান্ডে নেওয়া হয়।

খবর পেয়ে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়ালের নেতৃত্বের পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সুলতানের গৃহ থেকে ধারালো ও লম্বা দা-টি উদ্ধার করে। লাশ উদ্ধার করে পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে এবং এরপর ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। এদিকে, বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ও পাড়া-প্রতিবেশি বখাটে সুলতানকে তার গৃহ থেকে আটক করতে সক্ষম হয়। এবং পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। হুসন আহমদ ও সুলতান একই বাড়ির লোক, পাশাপাশি গৃহ। ঘটনার পর পর আশপাশের লোকজন ওই বাড়িতে যায় এবং পুলিশ আসার পর সুলতানকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে সাহায্য করে। পুলিশের কাছে সুলতান প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে যে, সে খুন করেছে হুসন আহমদকে। দাপটের সাথে সে স্বীকার করেছে এবং যে দা দিয়ে জবাই করেছে সেটিও সে পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছে। পারিবারিক বিরোধ থেকে সে তার মুতাওয়াল্লী চাচাতো ভাইকে খুন করে। তার ভাব এমন যে, খুন করে সে বড় কোন অন্যায় করেনি।

আওয়ামী লীগের সমর্থক সুলতান যে খারাপ লোক- এটা তার পাড়া-প্রতিবেশি ও গ্রামবাসী সকলেই বলছেন। তার আচরণে এলাকার অনেক লোক অতীষ্ট। সে মদ ও গাজা সেবন করে। সমকামিতা ও বলাৎকারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এলাকার কিশোর ও ইয়াং বয়সী ছেলেপেলে তার থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করে ভয়ে। তার কুকীর্তির আরো নানা কাহিনী রয়েছে। সে যে তার চাচাতো ভাইকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে এবং হত্যার পরও তার মথ্যে কোন অনুশোচনা নেই- এর প্রমাণ গ্রেফতার হওয়ার সময়ও সে ধূমপান করছে পুলিশ ও জনতার সামনে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে- তার হাতে সিগারেট, অথচ উঠানে তখন তার চাচাতো ভাইয়ের লাশ। বয়সে কয়েক বছরের বড় চাচাতো ভাইকে খুন করার পর সে কিভাবে সিগারেট টানতে পারে? যারা সাধারণত ধূমপান করে তারা তাদের মুরব্বী বা বড় ভাই ও চাচাদের সামনে অন্তত ধূমপান করা থেকে বিরত থাকে। খুনের ঘটনা ঘটার পর পর আশপাশের মুরব্বী ও ছোটো-বড়ো অনেক জড়ো হন ওই বাড়িতে। এতো লোক ও পুলিশের সামনে সে সিগারেট হাতে নিয়ে ধূমপান করে কিভাবে? খুন করার পর মনের সুখে সিগারেট টানছে, হত্যাকাণ্ড সেলিব্রেট করছে কুলাঙ্গার সুলতান। বেয়াদব ও চরম মাত্রার ইতর না হলে এটা সম্ভব নয়। বখাটে ও খুনি সুলতানের ফাঁসি চাই।