মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে অব্যাহত বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এসব গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ। বন্যায় তলিয়ে গেছে আউশ ফসলের মাঠ।
জানা যায়, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বুধবার (৮ জুলাই) রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। এতে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়। বিশেষ করে মোকাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাও, গংগানগর, কোনাগাও, বেরিগাও, শ্রীপুর, পাতারিগাও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাও, বন্দেরগাও, তেইতইগাও, ভানুবিল ও ঘোরামারা গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তলিয়ে যায় বিভিন্ন সড়ক ও বিদ্যালয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ধলাই নদীর মোখাবিলের এ অংশ টুকু অনেক আগে থেকেই ভাঙা। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকমতো কাজ করলে এত ক্ষতি হতো না। বন্যায় মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মানুষের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। আউশ ধান ও বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব মিয়া ও জাকির হোসেন বলেন, ‘বুধবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ করে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। প্রায় ১০০ মিটার ভেঙেছে। কয়েকটি ইউনিয়নের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।’
ইতোমধ্যে কমলগঞ্জ –আদমপুর সড়কটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ পথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে আলীনগর ও মাধবপুর এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান সকাল ১০টায় বন্যা কবলিত এলাকা পরির্দশন করেছেন।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বন্যায় প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যতটুকু সম্ভব উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ধলাই নদীর পানি ইতোমধ্যে সকাল ৮টায় বিপৎসীমার ১ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আগেই সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কাজ করার সময় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আপত্তির কারণে নির্ধারিত পরিসরে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে যতটুকু এলাকায় কাজ করা গেছে, কেবল সেই অংশেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।
সম্পাদক প্রকাশক : খন্দকার মোঃ বদরুল আলম । কার্যালয়, মার্ভেলাস টাওয়ার দিত্বীয় তলা ১০/১১ নং অফিস সিলেট-গোলাপগঞ্জ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ০১৭২০৫৫৪৫৯০। ই-মেইল : gbbartanews@gmail.com