নোমান মাহফুজ: অসহনীয় গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সিলেটের বিভিন্ন এলাকার মতো গোলাপগঞ্জ উপজেলাতেও জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগী—সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। গরম আর লোডশেডিংয়ের যাতাকলে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না অনেকেই। ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কখনও ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরবর্তী ২ ঘণ্টা থাকে লোডশেডিং। অনেকের দাবি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। দিন-রাত মিলিয়ে ২০ থেকে ৩০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। অনেক শিশু গরমজনিত বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। রাতভর বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। ফলে কর্মজীবী মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিদ্যুৎ এলেও অনেক সময় তা মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিট স্থায়ী হয়। এতে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ওষুধ ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগে রয়েছেন। ফ্রিজে সংরক্ষণযোগ্য বিভিন্ন ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘরে সংরক্ষিত মাছ, মাংস ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। হিমায়িত খাদ্যপণ্য, আইসক্রিম ও ঠান্ডা পানীয় বিক্রেতারাও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সমস্যার কারণে উপজেলার স্থানীয় গণমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও প্রকাশ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। এক সচেতন নাগরিক লিখেছেন, “লোডশেডিং করতেই হলে অন্তত নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করুন। অনিয়মতান্ত্রিক লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাতে অফিস-আদালত ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকার পরও গভীর রাতে লোডশেডিং করায় মানুষ ঘুমাতে পারছে না। এভাবে চলতে থাকলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
এ বিষয়ে জানতে গোলাপগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের জোনাল ও এরিয়া অফিসের সরকারি মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমায়ূন কবির লিখেছেন, “গোলাপগঞ্জে এখন মনে হয় বিদ্যুৎ নয়, লোডশেডিং-ই নিয়ম। দিনে লোডশেডিং, রাতে লোডশেডিং। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, যখন এত ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, তখন বিদ্যুৎ বিল এত বেশি আসে কীভাবে? অভিযোগ নয়, অন্তত লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হোক, যাতে মানুষ কিছুটা প্রস্তুতি নিয়ে চলতে পারে।”
আরেক বাসিন্দা মুহাম্মদ শাকিল লিখেছেন, “ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার এই চরম ভোগান্তি আর কতদিন? তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ দূর করতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
এদিকে, টানা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ গোলাপগঞ্জবাসী দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রশ্ন—এই ভয়াবহ লোডশেডিং ও চরম জনদুর্ভোগের অবসান কবে হবে?
সম্পাদক প্রকাশক : খন্দকার মোঃ বদরুল আলম । কার্যালয়, মার্ভেলাস টাওয়ার দিত্বীয় তলা ১০/১১ নং অফিস সিলেট-গোলাপগঞ্জ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ০১৭২০৫৫৪৫৯০। ই-মেইল : gbbartanews@gmail.com