গোলাপগঞ্জে মাদকের বিস্তার: আমাদের করণীয় - আনোয়ার শাহজাহান
মাদক আজ আমাদের সমাজের অন্যতম বড় অভিশাপ। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো গোলাপগঞ্জ উপজেলাও এই ভয়াবহ সমস্যার বাইরে নয়। দিন দিন এখানে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের করাল গ্রাসে আটকা পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত।
প্রশাসন নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে। মাদক ব্যবসায়ী, তাদের সহযোগী এবং মাদকাসক্তদের গ্রেফতার করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা পুনরায় সমাজে ফিরে এসে আগের মতোই মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ফলে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। কেবল গ্রেফতার করলেই চলবে না; মাদকের উৎস, সরবরাহ চক্র এবং এর পৃষ্ঠপোষকদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না, এটি একটি পরিবার এবং পুরো সমাজকে বিপর্যস্ত করে তোলে। মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
উপজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় দ্রুতগতিতে কলোনি ও ভাড়াবাসার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়াদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বাড়ির মালিকদের পর্যাপ্ত তথ্য থাকে না। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। তাই বাড়ি ও কলোনির মালিকদের উচিত ভাড়াটিয়াদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংরক্ষণ, ভাড়ার চুক্তিপত্র সম্পাদন এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখা। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
তবে শুধু প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমাজে অসংখ্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠন যদি মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে, তাহলে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
আমার বিশ্বাস, গোলাপগঞ্জ উপজেলাসহ প্রতিটি ইউনিয়নে মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা সময়ের দাবি। এসব কমিটিতে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে এই আন্দোলনের অংশ হতে হবে।
মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এই ব্যাধি থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হলে পরিবার, সমাজ, প্রশাসন এবং রাষ্ট্র—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আমরা যদি আজ সচেতন না হই, তাহলে আগামী প্রজন্মকে এর ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে। তাই আসুন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি এবং একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ গোলাপগঞ্জ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।
— আনোয়ার শাহজাহান
সম্পাদক- আমাদের প্রতিদিন
প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল সেক্রেটারি ও সাবেক চেয়ারম্যান- গোলাপগঞ্জ উপজেলা সোশ্যাল ট্রাস্ট ইউকে।
সম্পাদক প্রকাশক : খন্দকার মোঃ বদরুল আলম । কার্যালয়, মার্ভেলাস টাওয়ার দিত্বীয় তলা ১০/১১ নং অফিস সিলেট-গোলাপগঞ্জ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ০১৭২০৫৫৪৫৯০। ই-মেইল : gbbartanews@gmail.com