আব্দুল্লাহ আল মাসুদ:
পবিত্র ঈদুল আজহা ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবতার এক অনন্য শিক্ষা দেয়। কোরবানির মূল উদ্দেশ্য শুধু পশু জবাই নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। অথচ প্রতি বছরই দেখা যায়, অনেক পরিবার কোরবানির মাংসের বড় অংশ ফ্রিজে সংরক্ষণে ব্যস্ত থাকলেও আশপাশের গরিব-দুঃখীদের খোঁজ নিতে ভুলে যায়।
শহর থেকে গ্রাম-অনেক জায়গাতেই এমন দৃশ্য চোখে পড়ে, যেখানে ফ্রিজ ভর্তি মাংস জমা রাখা হচ্ছে মাসের পর মাস খাওয়ার জন্য। অন্যদিকে একই এলাকায় এমন অসংখ্য পরিবার রয়েছে, যারা সারা বছর তো দূরের কথা, ঈদের দিনেও এক টুকরো ভালো মাংসের স্বাদ পায় না। অনেক দরিদ্র শিশু দূর থেকে কোরবানির পশু দেখেই আনন্দ খুঁজে নেয়, কিন্তু তাদের ঘরে পৌঁছায় না কোরবানির মাংস।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, কোরবানির অন্যতম উদ্দেশ্যই হলো সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি করা। যারা সামর্থ্যবান, তাদের দায়িত্ব শুধু নিজের পরিবারের জন্য নয়, আশপাশের অভাবী মানুষের কথাও ভাবা। কোরবানির মাংসের একটি অংশ গরিব-দুঃখীদের মাঝে বণ্টন করার শিক্ষা ইসলামে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সমাজের সচেতন মহল মনে করেন, বর্তমানে অনেকের মধ্যে কোরবানিকে ঘিরে এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। কে কত বড় গরু দিলেন, কত মাংস ফ্রিজে জমালেন, এসব বিষয় সামাজিক মর্যাদার অংশ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অথচ কোরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে ভাগাভাগি ও মানবিকতায়।
অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও তরুণরা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় উদ্যোগ নিয়েছেন যেন আশপাশের কোনো দরিদ্র পরিবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়। তাদের মতে, একটি পরিবারের ফ্রিজে অতিরিক্ত মাংস জমা রাখার চেয়ে কয়েকটি দরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো অনেক বেশি সওয়াবের কাজ।
ইসলামিক চিন্তাবিদের ভাষায়, কোরবানির শিক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। ত্যাগের এই উৎসব তখনই অর্থবহ হবে, যখন সমাজের ধনী-গরিব সবাই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারবে।
সম্পাদক প্রকাশক : খন্দকার মোঃ বদরুল আলম । কার্যালয়, মার্ভেলাস টাওয়ার দিত্বীয় তলা ১০/১১ নং অফিস সিলেট-গোলাপগঞ্জ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ০১৭২০৫৫৪৫৯০। ই-মেইল : gbbartanews@gmail.com