সিলেট-৬ আসনে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের হাইভোল্টেজ প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাপে ফেলেছেন তরুণ জমিয়ত নেতা, হেলিকপ্টার প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফেজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম। দিনের আলো ফুটতেই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে নামেন তিনি। নির্বাচনী এলাকায় এরইমধ্যে তাঁর পক্ষে সাধারণ মানুষের অবস্থান শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ঘরের ছেলে এমপি হলে তাদের লাভ। তাই ফখরুল ইসলামকে সমর্থন দিচ্ছেন তারা। তাছাড়া ক্লিন ইমেজের এই তরুণ প্রার্থী নিজ গুণে অর্জন করেছেন ভোটারদের আস্থা, গড়ে তুলেছেন অরাজনৈতিক বোঝাপড়া। যা সাধারণ মানুষের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত এক সপ্তাহ ধরে অন্যান্য হাইভোল্টেজ প্রার্থীদের ছাপিয়ে রীতিমতো আকাশে উড়ছে মাওলানা ফখরুলের হেলিকপ্টার।
দেশের পটপরিবর্তনের আরও এক বছর আগে থেকে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন মাওলানা ফখরুল ইসলাম। গত রমজান মাসে দুই উপজেলার ১১ স্থানে প্রতিদিন একসঙ্গে তিন হাজার প্যাকেট ইফতার বিতরণ এবং দরিদ্র পরিবারের মধ্যে এ ১১টি স্থান থেকে পাঁচ টাকা দিয়ে হাজার টাকার খাদ্যসামগ্রী বিতরণের যে কার্যক্রম তিনি পরিচালনা করেছেন, তা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার ছয় মাস আগে থেকে দুই উপজেলার প্রান্তিক জনপদের প্রায় অর্ধশত কাঁচা সড়কে শত শত ট্রাক ইট, বালু ও সুরকি প্রদান করে সংস্কার ও মেরামত করেছেন ফখরুল ইসলাম।
নির্বাচনে এই তরুণ প্রার্থীর কারণে ঘাম ঝরছে রাজনীতির মাঠের পরীক্ষিত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী– জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী ও জামায়াতের ঢাকা উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনের। তাদের সঙ্গে তিনি প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ আসনে নির্বাচিত হলে এটি হবে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীর তৃতীয় দফায় বিজয়। এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২১ সালে সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়া দুইবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী একবারও জয়ের দেখা পায়নি। বিএনপির একটি জয় এসেছিল ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে।
গত ২২ জানুয়ারি প্রচারণার শুরুতে তাঁকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির সঙ্গে জোটভুক্ত হওয়ায় দলের মনোনয়ন পাননি। সমর্থকদের চাপে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করার পর প্রাথমিক যাচাইয়ে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছিল।
প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচনী মাঠে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা মো. ফখরুল ইসলাম। নির্বাচনে তাঁর বিজয়ী হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তিনি নির্বাচিত হলে উন্নয়ন কাজে সরকারি অনুদান সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে প্রকল্প এলাকায় নিজ উদ্যোগে ডিজিটাল বোর্ড স্থাপন করে স্থানীয় জনসাধারণকে পুরো প্রকল্পের চিত্র তুলে ধরবেন জানিয়ে সমকালকে মাওলানা ফখরুল ইসলাম বলেন, নিজেকে পরিবর্তন করলে দেশ পরিবর্তন হবে। তিনি নির্বাচিত হলে এমপির প্রাপ্ত ভাতা দুই উপজেলার গরিবদের মধ্যে বণ্টন করবেন। সরকারি খরচ কমাতে সরকারি পরিবহন ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন। ১১টি গ্যাসকূপ থেকে উত্তোলিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে।
সম্পাদক প্রকাশক : খন্দকার মোঃ বদরুল আলম । কার্যালয়, মার্ভেলাস টাওয়ার দিত্বীয় তলা ১০/১১ নং অফিস সিলেট-গোলাপগঞ্জ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ০১৭২০৫৫৪৫৯০। ই-মেইল : gbbartanews@gmail.com