
স্টাফ রিপোর্টার:
গোলাপগঞ্জে আলোচিত যুবদল কর্মী জমিস উদ্দিন রনি হত্যা মামলার চার মাস অতিক্রম হলেও এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মোস্তাফিজুর রহমান রাজু কে। দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক থাকা এ আসামিকে ধরতে না পারায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।
নিহত জসিম উদ্দিন রনি ছোট্ট ছেলে ও বাবার হত্যার কারিদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি করেছে।
নিহত রনির বড় ভাই বাহার উদ্দিন বলেন, “আমি প্রায় প্রতিদিনই গোলাপগঞ্জ মডেল থানার সঙ্গে যোগাযোগ করছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—আমার ভাইকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, সেই প্রধান আসামি রাজুকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ। চার মাসেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। আমরা বিচার পাব কি না তা নিয়েই আতঙ্কে আছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলা হওয়ার চার মাস পার হলেও প্রধান আসামিকে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকায়।
রনি হত্যা মামলায় জড়িত দ্বিতীয় আসামি তানজিদা সুলতানা ইমা–কে ঢাকার বংশাল এলাকা থেকে গত ১১ নভেম্বর র্যাব–২ ও র্যাব–৯ এর যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
তবে গত ১ ডিসেম্বর জামিনে মুক্ত হয়ে বর্তমানে বাইরে রয়েছেন, এমনটি জানিয়েছেন নিহত রনির বড় ভাই বাহার উদ্দিন। তার ভাষায়—“দ্বিতীয় আসামি জামিনে বাইরে থাকতে পারছে, কিন্তু প্রধান আসামিকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ—এটা আমাদের আরও দুশ্চিন্তায় ফেলছে।”
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু সাইদ বলেন,
“রনি হত্যা মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এজহারভক্ত দুই আসামীর মধ্যে দ্বিতীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবং প্রধান আসামি রাজুসহ সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারে আমরা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছি। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকায় তাকে ধরতে সময় লাগছে। তবে খুব দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি। মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই—পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”
গোলাপগঞ্জের সাধারণ মানুষ মনে করছেন—একটি আলোচিত হত্যা মামলার প্রধান আসামি চার মাসেও গ্রেফতার না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মোল্ল্যা জানান, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। শীঘ্রই অগ্রগতি পাওয়া যাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত প্রধান আসামির গ্রেফতার এবং ন্যায়বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সম্পাদক প্রকাশক : খন্দকার মোঃ বদরুল আলম । কার্যালয়, মার্ভেলাস টাওয়ার দিত্বীয় তলা ১০/১১ নং অফিস সিলেট-গোলাপগঞ্জ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ০১৭২০৫৫৪৫৯০। ই-মেইল : gbbartanews@gmail.com