কুরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় মূলত ভালো কাজ এবং ইসলামি চর্চায় উৎসাহ দিতে, মানুষকে ধর্মীয় জ্ঞানে উদ্বুদ্ধ করতে এবং কুরআন তিলাওয়াত ও মুখস্থকরণকে উৎসাহিত করতে। এই প্রতিযোগিতাগুলো কুরআন তিলাওয়াত, মুখস্থকরণ, এবং ধর্মীয় সাধারণ জ্ঞানের চর্চাকে উন্নত করে এবং সমাজে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এহেন চিন্তা ফিকির নিয়ে আমাদের বৃহত্তর এলাকাগুলো নিয়ে আমরা ২০২৪ সাল থেকে শুরু করছি কুরআন প্রতিযোগিতা। যাতে প্রজন্মের বাচ্চারা দ্বীনের ভিত্তি মজবুত করতে পারে। অভিভাবক মহলে দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব ফুটে ওঠে। জাগতিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে যেন মানুষ তার আখেরাত না হারায়।
কেন কুরআন প্রতিযোগিতা?
ধর্মীয় জ্ঞান ও চর্চার উন্নয়ন: প্রতিযোগিতা মানুষকে কুরআন তিলাওয়াত, অর্থ বোঝা এবং মুখস্থ করার প্রতি উৎসাহিত করে।
সৎকাজে উৎসাহ: এটি ভালো কাজ, যেমন কুরআন পাঠ এবং ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনে প্রতিযোগিতা-মূলক মনোভাব তৈরি করে।
কুরআন ও হাদিসের প্রচার: এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়ে এবং চর্চা বৃদ্ধি পায়।
সামাজিক প্রভাব: টেলিভিশনে প্রতিযোগীদের সুন্দর তিলাওয়াত দেখে অনেক অভিভাবক এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে কুরআনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়, যা সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ইসলামিক মূল্যবোধের প্রচার: ইসলামিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ করে তোলার একটি অংশ হিসেবেও এই প্রতিযোগিতাগুলো আয়োজিত হয়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
উদ্দেশ্য: যদি প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং কুরআনের প্রচারের জন্য হয়, তবে তা খুবই ফলপ্রসূ। কিন্তু যদি এর উদ্দেশ্য শুধুমাত্র দুনিয়াবি লোভ বা আত্মপ্রচার হয়, তবে তা নিন্দনীয়।
ইসলামিক অনুমোদন: ইসলামে যে কোনো ভালো কাজের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা এবং অংশগ্রহণ করা জায়েজ বলে বিবেচিত হয়, যেমনটি কুরআনেও সৎকর্মে প্রতিযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তার প্রশংসা করেছেন। যেমন:
✪ আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ
“অত:এব তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যাও।” [সূরা বাকারা: ১৪৮]
✪ আল্লাহ তাআলা সৎকর্মে প্রতিযোগিতা কারীদের প্রশংসা করে বলেন,
وَيُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَأُولَٰئِكَ مِنَ الصَّالِحِينَ
আর তারা সৎকর্মে পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে আর এরাই হল, সৎকর্ম শীল।” [সূরা আলে ইমরান: ১১৪]
✪ তিনি আরও বলেন,
إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ
“তারা তো সৎকাজে প্রতিযোগিতা করতো।” [সূরা আন্বিয়া: ৯০]
প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন পুরষ্কারের প্রদানের মাধ্যমে বিজয়ীকে সম্মানী দেওয়াও জায়েজ। কেননা এটা মূলত: কুরআন তিলাওয়াত, মুখস্থ করণ, জ্ঞানচর্চার বা দীনী কাজের প্রতিদান নয় বরং এটা প্রতিযোগীর সময় ও শ্রমের মূল্যায়ন এবং মেধার স্বীকৃতি। এর মূল পুরষ্কার সে আখিরাতে অর্জন করবে ইনশাআল্লাহ। তবে শর্ত হল, যারা এসব প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করবে তাদের অন্তরে খুলুসিয়াত তথা এ নিয়ত থাকতে হবে যে, তাদের এ সকল কার্যক্রমের আসল পুরষ্কার মহান আল্লাহ তাদেরকে আখিরাতে দান করবেন। দুনিয়ার এই পুরষ্কার তাদের মূল টার্গেট নয়। যেমন: মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় শিক্ষক, দাঈ, ওয়ায়েজ প্রমূখ ব্যক্তিগণ তাদের দীনী কার্যক্রমের বিনিময়ে বেতন/পারিশ্রমিক গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুরষ্কার, অর্থকড়ি, সার্টিফিকেট ও সম্মাননা গ্রহণ করে। কিন্তু এগুলো তাদের সৎকর্মের বিনিময় নয় বরং তাদের কষ্ট, পরিশ্রম ও মেধার সামান্য মূল্যায়ন এবং পারিশ্রমিক মাত্র। আখিরাতে সে মহান আল্লাহর নিকট প্রকৃত সওয়াব (প্রতিদান) লাভ করবে। এই নিয়তেই তাকে এ সকল দীনের কাজ আঞ্জাম দিতে হবে; অন্যথায় সে গুনাহগার হবে।
মোটকথা, কুরআন তিলাওয়াত, কুরআন মুখস্থ বা অন্য যে কোনও দীনী কাজে প্রতিযোগিতা করা এবং বিজয়ীদেরকে পুরষ্কার প্রদান করা বা তা গ্রহণ করা জায়েজ। তবে শর্ত হল, প্রতিযোগীর বা আয়োজনকারীর উদ্দেশ্য থাকতে হবে, দীনের কাজের প্রচার-প্রসার এবং কল্যাণকর কাজের জন্য মানুষকে উৎসাহ দান। কিন্তু এ সব কাজের প্রকৃত পুরস্কার পাবে আখিরাতে মহান আল্লাহর দরবারে। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
হাফিয নোমান মাহফুজ
নির্বাহী সভাপতি
ইত্তেহাদুল হুফফায ফাউন্ডেশন নিশ্চিন্ত
গোলাপগঞ্জ, সিলেট।
সম্পাদক প্রকাশক : খন্দকার মোঃ বদরুল আলম । কার্যালয়, মার্ভেলাস টাওয়ার দিত্বীয় তলা ১০/১১ নং অফিস সিলেট-গোলাপগঞ্জ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ০১৭২০৫৫৪৫৯০। ই-মেইল : gbbartanews@gmail.com