নোমান মাহফুজ
বর্তমানে হক্কানি উলামায়ে কেরামকে গালি দেয়া ও তাঁদের সঙ্গে বিদ্বেষ রাখার মতো বিষাক্ত মানসিকতা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ যেকোনো মুসলমানকে গালি দেয়া, বিদ্বেষী মনোভাব ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা নাজায়েজ ও ফাসেকি কাজ। সুতরাং উম্মতের শ্রেষ্ঠ সম্প্রদায় উলামায়ে কেরামকে গালি দেওয়া, ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা আরো জঘন্যতম কাজ। চলমান ভাস্কর্য ইস্যুতে একদল লোক যেমন ইচ্ছা তেমন করে কুরআন হাদীসকে প্রচার করে ভাস্কর্য জায়েজের যে প্রতারণাময় প্রোগাগান্ডা চালাচ্ছে। তা শুধু আফসোস করার নয়। বুকফাটা যন্ত্রণার।
যে লোকগুলো সহীহ শুদ্ধ করে আরবী ২৯ হরফ উচ্চারণ করার সামর্থ্য রাখে না। তারাই বিভিন্ন ভুঁইফোড় সাইট থেকে কথিত ও বানোয়াট কথা শেয়ার করে এবং দলিল পেশ করে আলেমদের শাসন করতে চায়। কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করে। যেন তারাই ইসলাম ধর্মে বিশাল পাণ্ডিত্যের অধিকারী। অথচ এদের মধ্যে অনেক পরিচিতজনদের স্বচক্ষে দেখেছি, তারা সহীহ শুদ্ধ করে কালেমা তাইয়্যেবাহ পড়তে পারে না। যে আলেমদের মুখে 'ওয়াক্বালা তা'য়ালা আর ক্বালা রাসুলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' এর বাণী প্রতিনিয়ত উচ্চারিত হয়, তাদেরকে গালি দেয়। কটু কথা বলে। বেয়াদবি মূলক আচরণ করে। একটুও বুক কাঁপে না তাদের। অথচ তারাই আবার নিজেদের মুসলিম দাবী করে। তাদের ব্যাপারে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ' যে ব্যক্তি আলেমদের সম্মান করলো সে যেনো আমাকেই সম্মান করলো।” [দারেমী]'। তারা কী সে হাদীসটি খুঁজে পায়নি? তারা কী জানে না নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ‘বৃদ্ধ মুসলমান, কোরআনের আদব রক্ষাকারী ও কোরআন অনুযায়ী আমলকারী হাফেজ এবং ন্যায়পরায়ণ বাদশার সম্মান করা মহান আল্লাহর সম্মান করার অন্তর্ভুক্ত।’ (আবু দাউদ : ৪০৫৩)
কোনো আলেমকে আলেম হওয়ার কারণে গালি দেয়া, তাঁর সঙ্গে শত্রুতা বা বিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করা কুফরি কাজ। এটি খুবই ভয়াবহ মানসিকতা। এমন মানসিকতা লালনকারী ব্যক্তি তওবা না করলে ঈমানের সঙ্গে তার মৃত্যু হবে কি না ঘোর সন্দেহ আছে। ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি উলামায়ে কেরামকে অবজ্ঞা করবে তার আখিরাত ধ্বংস হবে। যে ব্যক্তি রাজা-বাদশাদের অবজ্ঞা করবে তার দুনিয়া ধ্বংস হবে। যে ব্যক্তি নিজের ভাইকে অবজ্ঞা করবে তার মানবিকতা ধ্বংস হবে। (সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৮/৪০৮) আল্লামা জাইনুদ্দিন ইবনে নুজাইম মিসরি (রহ.) বলেন, ‘যদি কেউ কোনো আলেম বা ফকিহকে ব্যক্তিগত কোনো কারণ ছাড়া (আলেম হওয়ার কারণে) গালি দেয়, তাহলে সে কাফির হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ (আল-বাহরুর রায়েক : ৫/১৩২)। যে কোনো শরয়ি সমস্যা নিরসনে তাঁদের দ্বারস্থ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ তাআলা নিজেই। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘অতএব আলেম-জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করো, যদি তোমাদের জানা না থাকে।’ (সুরা নাহল : ৪৩)
হাদিসে কুদসিতে আছে, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে দুশমনি করবে আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম।’ (বুখারি : ৬৫০২) রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ওই ব্যক্তি আমার আদর্শের ওপর নাই, যে আমাদের বড়দের সম্মান করে না, ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের আলেমদের প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করে না।’ (মুসনাদে আহমদ : ২২১৪৩, মুস্তাদরাকে হাকেম : ৩৮৪)।
আলেমদের সঙ্গে উপহাস করার প্রথম ফলাফল হলো অন্তর মরে যাওয়া। শেষ পরিণাম হয় অনেক ভয়াবহ। কেননা, যারা কোরআন-সুন্নাহর ধারক-বাহকদের নিয়ে হাসিঠাট্টা ও অবজ্ঞা করে তাদের অন্তর থেকে মূল কোরআন-সুন্নাহ ও ইসলামের প্রতি প্রকৃত মূল্যবোধ হারিয়ে যায়। এভাবেই তারা ধীরে ধীরে সিরাতে মুস্তাকিম থেকে, আবার কেউ একেবারে ইসলাম থেকেই সটকে পড়ে। অতএব সাবধান! আগুন নিয়ে খেলবেন না। পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
সম্পাদক প্রকাশক : খন্দকার মোঃ বদরুল আলম । কার্যালয়, মার্ভেলাস টাওয়ার দিত্বীয় তলা ১০/১১ নং অফিস সিলেট-গোলাপগঞ্জ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ০১৭২০৫৫৪৫৯০। ই-মেইল : gbbartanews@gmail.com