আব্দুল্লাহ আল মাসুদ :
সিলেটে সাংবাদিকতা দিন দিন বদলে যাচ্ছে। শুধু সংবাদপত্র কিংবা অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এখন মাল্টিমিডিয়ার মজো সাংবাদিকরা রাত-দিন নিরলসভাবে মাঠে থেকে সমাজের নানা দিক জনসম্মুখে তুলে ধরছেন। বিশেষ করে রাত বিরাতে ফেসবুক লাইভ বা ভিডিও প্রতিবেদনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা পৌঁছে দিচ্ছেন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি পর্যন্ত।
এই প্রজন্মের সাংবাদিকদের হাতের স্মার্টফোনই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ক্যামেরা, লাইট, মাইক্রোফোনের ঝামেলা ছাড়াই তারা মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, চুরি-ছিনতাই, সামাজিক অব্যবস্থা কিংবা রাজনৈতিক পরিস্থিতি—সবকিছুই তাদের চোখে ধরা পড়ে এবং তা সঙ্গে সঙ্গে দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়।
শুধু সংবাদ প্রচার নয়, এ ধরনের লাইভ সম্প্রচারের কারণে অনেক সময় প্রশাসনও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্যার সমাধান করে। একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, সাংবাদিকদের লাইভ দেখেই স্থানীয় পুলিশ বা জনপ্রতিনিধিরা ব্যবস্থা নিয়েছেন। ফলে মানুষের আস্থা বাড়ছে এই নতুন ধারার সাংবাদিকতার প্রতি।
স্থানীয়রা বলছেন, মাল্টিমিডিয়ার মজো সাংবাদিকরা সমাজের নানা দিক যেমন তুলে ধরছেন, তেমনি ভালো কাজগুলোও সামনে নিয়ে আসছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—কেউ রাস্তার পাশে অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা কেউ দুঃস্থ পরিবারের সহায়তার জন্য এগিয়ে এলে, তাৎক্ষণিক লাইভের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পায় এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধারার সাংবাদিকতা তরুণদের ভেতর ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। এতে যেমন সিলেটের সাংবাদিকতা সমৃদ্ধ হচ্ছে, তেমনি সামাজিক দায়বদ্ধতাও বাড়ছে।
সাংবাদিক মহলের দাবি, মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতার এই ধারা সিলেটকে জাতীয় পর্যায়ে একটি আলাদা পরিচিতি এনে দেবে। কারণ রাত-দিন এক হয়ে যারা মানুষের কথা বলে যাচ্ছেন, তারাই আগামী দিনের সাংবাদিকতার মেরুদণ্ড হয়ে উঠবেন।
সম্পাদক প্রকাশক : খন্দকার মোঃ বদরুল আলম । কার্যালয়, মার্ভেলাস টাওয়ার দিত্বীয় তলা ১০/১১ নং অফিস সিলেট-গোলাপগঞ্জ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ০১৭২০৫৫৪৫৯০। ই-মেইল : gbbartanews@gmail.com