সিলেটে শাসন করায় শ্যালকপুত্রের হাতে খুন হয়েছেন এক মাদরাসা শিক্ষক। আর লেনদেন নিয়ে বিরোধের জের ধরে খুন হয়েছেন এক যুবক। বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে মহানগরীর আখালিয়া বড়গুল এলাকায় মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা জুবায়ের আহমদ ও মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাতে খাদিমনগর উদ্যানের কাছে আজাদুর রহমান নামের যুবক খুন হন।
নিহত মাওলানা জুবায়ের আহমদ (৪৫) আখালিয়া বড়গুল গ্রামের মৃত মদরিছ আলীর ছেলে ও স্থানীয় ডা. তানজিনা আহমদ দাখিল মাদরাসার সুপার। আর আজাদুর রহমান
(২৫) গোয়াইনঘাট উপজেলার বিন্নাকান্দি গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।
পুলিশ জানায়, মাওলানা জুবায়ের আহমদের স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলে নয়ন আহমেদ এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় নয়নকে শাসাতেন মাওলানা জুবায়ের। গতকাল বুধবার মাদরাসায় যাওয়ার সময় রাস্তায় নয়ন ময়লা পানি ছুঁড়ে মারে তার ফুফার গায়ে। এতে মাওলানা জুবায়েরের কাপড় নোংরা হয়ে যায়। বিষয়টি তিনি ফোনে পরিবারকে জানান। এরপর তিনি মাদরাসার উদ্দেশ্যে হাঁটতে থাকলে পেছন থেকে এসে নয়ন উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ জানান, ‘চালচলন ভাল না হওয়ায় কিছুদিন আগে মাওলানা জুবায়ের তার ছেলের সাথে নয়নকে মিশতে নিষেধ করেন। বুধবার মাদরাসায় যাওয়ার পথে প্রথমে সে পানি নিয়ে মাওলানা জুবায়েরের কাপড় নোংরা করে এবং পরে তাকে ছুরিকাঘাত করে খুন করে।’
এদিকে, লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আজাদুর রহমান নামের এক যুবক খুন হয়েছেন। পুলিশ জানায়, শাহপরাণ এলাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন আজাদ। খাদিমনগর উদ্যান ও বুরজান চা বাগানের মাঝামাঝি স্থানে যাওয়ার পর আজাদের মোটরসাইকেল নষ্ট হয়ে যায়। এসময় ওই স্থানে অবস্থান করছিল একই গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ও তার সহযোগীরা। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দেলোয়ার ও তার সহযোগীরা আজাদ ও তার সাথে থাকা অপর এক যুবককে কুপিয়ে আহত করে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আজাদকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সিলেট এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিছুর রহমান জানান, ‘পূর্ববিরোধের জের ধরে আজাদুর রহমান নামের ওই যুবক খুন হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকান্ডের নেপথ্যে আর্থিক লেনদেনও থাকারও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার আজাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
সম্পাদক প্রকাশক : খন্দকার মোঃ বদরুল আলম । কার্যালয়, মার্ভেলাস টাওয়ার দিত্বীয় তলা ১০/১১ নং অফিস সিলেট-গোলাপগঞ্জ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ০১৭২০৫৫৪৫৯০। ই-মেইল : gbbartanews@gmail.com