আজ ২৩ জুলাই। ২০১৫ সালে আজকের এই দিনে মাগুরার দোয়ারপাড়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছোড়া গু*লি*তে নাজমা নামে এক মায়ের পেটে গু*লিবিদ্ধ হয় এক শিশু (পরবর্তীতে জরুরী অপারেশন করে জীবিত জন্ম নেয় শিশুটি) । তার নাম সুরাইয়া। সংঘর্ষের সময় গু*লিবিদ্ধ হওয়ার কারণে সুরাইয়ার ডান চোখে দৃষ্টিশক্তি নেই। শক্তি নেই দুই পায়ে। অন্য শিশুরা হেঁটে স্কুলে গেলেও সুরাইয়া যায় মায়ের কোলে চড়ে। শিশুটির ডান হাতও অকার্যকর।
২০২৪'র জুলাইয়ে আন্দোলন দমাতে হেলিকপ্টার থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চালানো গু*লিতে নি-হ-ত হয় এক শিশু। আন্দোলনে প্রায় ১৫জন শিশু নি-হ-ত হয় বলে জানাগেছে।
দৈনিক সমকালের ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই ‘ফুল হয়ে ফোটার আগেই ঝরলো ওরা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আহাদ, রিয়া, সামির, হোসাইন, মোবারক, তাহমিদ, ইফাত ও নাঈমা নামের ফুলের মতো শিশুগুলো সবে ফুটছিল। তবে আর বিকশিত হতে পারেনি। বুলেটের আঘাতে ছোট্ট জীবনগুলো ঝরে গেছে কুঁড়িতেই। বাবার কোলের মতো নিরাপদ আশ্রয়েও তাদের আঘাত করেছে ঘাতক বুলেট। আবার কারফিউ মেনে ঘরের কোণে থেকেও কারও জীবনসৌরভ মুছে গেছে বারুদের গন্ধে। সব ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে প্রাণ গেছে এই শিশুদের।
আবারো সেই জুলাই!
গত পরশু ২১ জুলাই যুদ্ধ বিমান দূর্ঘটনায় এ পর্যন্ত প্রান হারায় ৩২জন। গুরুতর আহত চিকিৎসাধীন ১৬৫ জন শিশু।
১৯৯৩ সালে বহুল জনপ্রিয় রেনেসাঁ ব্যান্ডের " তৃতীয় বিশ্ব" এ্যালবামের একটি গান ছিলো-
আজ যে শিশু
পৃথিবীর আলোয় এসেছে
আমরা তার তরে একটি সাজানো বাগান চাই।
আজ যে শিশু
মায়ের হাসিতে ভেসেছে
আমরা চিরদিন সেই হাসি
দেখতে চাই..
এ গানের স্রষ্টা ছিলেন গীতিকার শহীদ মাহমুদ *জ*ঙ্গী। ১৯৯৫ সালে বিটিভিতে সম্ভবত ঈদের এক অনুষ্ঠানে রেনেসাঁ ব্যান্ডের সঙ্গে মিলে এ গান গেয়েছিলেন কলিম শরাফী, নীলুফার ইয়াসমিন, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার মতো প্রথিতযশা শিল্পীরা। ছিলেন জনপ্রিয় আরও সংগীতশিল্পী। তৎকালীন সময়ে গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তখনকার সময়ে তৃতীয় বিশ্বের শিশুদের জন্য গানটি সৃষ্টি হলেও। কথিত ডিজিটাল বাংলাদেশ পরবর্তীতে স্মার্ট বাংলাদেশ কি পেরেছে তার শিশুদের জন্য সাজানো বাগান তৈরী করতে।
ভেবে দেখুন ৩য়, ৪র্থ, ৫ম প্রজন্ম, Generation- Z বা জেন জির পর প্রজন্ম আলফা। সামনে আসছে প্রজন্ম বিটা। গানের সেই কথার মতো আমরা কি, এদেশের শিশুদের মায়ের হাসির মতো হাসি খুশিতে রাখতে পেরেছি?
জেনারেশন এক্স মানে ১৯৬৬ সালের লাড্ডু গিয়ার মার্কা যুদ্ধ বিমান উড়িয়ে এবং হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে আলফা জেনারেশনের (২০২৫ সালে) শিশুদের মা*রা হচ্ছে।
মায়ের পেটে থাকা জেনারেশন জি'র শিশুকে গুলি করে মা-রা হচ্ছে (২০১৫ সালে)।
হাসিনা লেথাল ওয়েপন দিয়ে ২০২৪ এ মা*র*লো জেনারেশেন জি'দের।
আমরা কি নিরাপদ রাখতে পেরেছি
আমাদের শিশুদের?
আমরা কি পারবো আসছে বিটা প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে?
গানের বাকি অংশ-
রেললাইনের পাশে নয়
অন্ধকার সিঁড়িতে নয়।
প্রতিটি শিশু মানুষ হোক
আলোর ঝর্নাধারায়।
শিশুর আনন্দমেলায়
স্বর্গ নেমে আসুক
হাসি আর গানে ভরে যাক
সব শিশুর অন্তর
প্রতিটি শিশু ফুলেল হোক
সবার ভালবাসায়..
লেখকঃ
মাহবুবুর রহমান চৌধুরী
বাংলাদেশের নাগরিক
সম্পাদক প্রকাশক : খন্দকার মোঃ বদরুল আলম । কার্যালয়, মার্ভেলাস টাওয়ার দিত্বীয় তলা ১০/১১ নং অফিস সিলেট-গোলাপগঞ্জ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ০১৭২০৫৫৪৫৯০। ই-মেইল : gbbartanews@gmail.com