নোমান মাহফুজ: ইদানিং সময়ে স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে ঝটপট চলে পত্রিকা পড়ার কাজ। অনলাইনে এটি এখন অনেক বেশি সহজ ও সাশ্রয়ী। চলতি পথে, যানবাহনে বা কাজের ফাঁকে টুক করে স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের খবর জানা এখন অতি সাধারণ বিষয়। অন্তত বর্তমান তরুণ প্রজন্মের দিকে দৃষ্টি দিলে সেটিই দেখা যায়। আর এটি সম্ভব হয়েছে বিগত কয়েক বছরে দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতে উল্লেখযোগ্য সমৃদ্ধির কারণে। বড়রাও অবশ্য কিশোর—কিশোরী ও তরুণ—তরুণীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনলাইনে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন। ফলে প্রতি মুহূর্তে অনলাইন পত্রিকাগুলোর ‘ভিজিটর’ (পাঠক) বাড়ছে। ছাপা পত্রিকা নেওয়া হয় না। দেশ—বিদেশের প্রয়োজনীয় সংবাদ তারা অনলাইন পত্রিকায় তাৎক্ষণিকভাবে পড়ে ফেলেন। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ছাপা পত্রিকা পড়া এখন সেকেলে মনে হয়। অনলাইন গণমাধ্যম জগতের এক নাম জিবি বার্তা। সময়ের একটি নিউজ পোর্টাল। ২০১৬ সালে গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের কোন এক বাসার সিটিনে বসে যার আত্মপ্রকাশ ঘটে। মনে পড়ে তখনকার অনেক স্মৃতি! সহকর্মী খন্দকার বদরুল আলম, জাকারিয়া মোহাম্মদ, জাহিদ উদ্দিন ও আমি বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। আড্ডার ফাঁকে বদরুল ভাই জানালেন নিজ ইচ্ছার কথা। একটি অনলাইন পোর্টাল করবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। তাৎক্ষণিক একটি নাম প্রস্তাব করেই তা গৃহীত হয়ে যায়। নামটি হলো “গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজার বার্তা”। তখন ছিলো ইউপি নির্বাচনের আমেজ। সর্বপ্রথম প্রিন্ট প্রকাশনার মাধ্যমেই আমাদের যাত্রা শুরু হয়। তখন ছিলো জুন মাসের ১৫ তারিখ। খন্দকার বদরুল আলম ভাইয়ের সম্পাদনায় আমি নগণ্য ছিলাম নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বে। জাহিদ উদ্দিন ছিলো বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বে আর জাকারিয়া মোহাম্মদ ছিলো সহকারী সম্পাদকের দায়িত্বে। প্রথম প্রিন্ট প্রকাশনায় পাঠক শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে অভুতপূর্ব সাড়া পেয়েছিলাম। সেই থেকে আমাদের আত্মবিশ^াস বেড়েছিলো খুব বেশী। এরপর অনলাইন ভার্সনের কাজ হলে পুরোপুরি পথচলা চলতে থাকে তার আপন গতীতে। প্রথম দিকে আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ঝামেলার কারণে বার্তার সঙ্গে থাকতে পারিনি। দীর্ঘ বিরতিতে থাকার পর ২০১৮ সালের শেষ দিক থেকে আবার যুক্ত হই বার্তার সাথে। নির্বাহী সম্পাাদকের দায়িত্ব নিয়ে আজোব্দি যথাসাধ্য দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। জিবি বার্তা গোলাপগঞ্জের সর্বপ্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল। প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই গোলাপগঞ্জ—বিয়ানীবাজারের মানুষের সুখ দুঃখের কথা তুলে ধরার চেষ্ঠা করে যাচ্ছে। আর তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে চলবে, ইনশাআল্লাহ! জিবি বার্তা নিয়ে পরিচালনা পরিষদের রয়েছে নানাবিধ চিন্তাধারা। আশা রাখি তার প্রতিফলন ঘটবে ধীরে ধীরে। জিবি বার্তার উদ্দোগে দু’হাজার আঠারো সালের প্রথম দিকে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ অনেক নবীন সংবাদকর্মীরা তাতে অংশ নিয়ে উপকৃত হয়েছেন। আগামীতেও আরো কর্মশালার আয়োজন করা হবে। ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করা হবে, যাতে সংবাদকর্মী সহ গোলাপগঞ্জ—বিয়ানীবাজারের মানুষজন সহ দেশবাসী উপকৃত হয়।
প্রিয় পাঠক! বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয় বন্দি। ফেসবুকে সক্রিয় থাকলে ছাপা পত্রিকার পুরনো খবর পড়ার দরকার হয় না। এছাড়া মাসচুক্তি ৩শ টাকায় একটি ছাপা পত্রিকা পড়ার চেয়ে, প্রায় সমপরিমাণ টাকায় এক গিগাবাইট কিংবা তার চেয়ে বেশি ইন্টারনেট প্যাকেজ নিয়ে দেশি—বিদেশি শত শত পত্রিকা পড়ার সুযোগ, সঙ্গে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন সেবা নেওয়ার সুবিধা কেউ হাতছাড়া করবেন কেন! বর্তমান প্রজন্ম খুব অস্থির। অস্থির চিত্তে তারা স্থির থাকতে চায়। দ্রুততার সঙ্গে তারা সব জানতে চায়। এজন্য অনলাইনের বিকল্প নেই। আর তাই জিবি বার্তাও তার প্রতিফলন ঘটাতে সদা সচেষ্ট থাকছে। সাধারণ মানুষের মতামত হলো, ব্যস্ততার কারণে ছাপা পত্রিকা তেমন পড়ার সুযোগ হয় না। টেলিভিশনে খবর দেখারও সুযোগ কম। সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনই খবর জানার উত্তম মাধ্যম। তবে পাঠক মহল দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা অনলাইনে কিছু পত্রিকার মনগড়া খবরে তারা প্রায়ই বিভ্রান্ত ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতে পড়েন। সারা বিশ্বজুড়ে প্রিন্ট মিডিয়ার ধস নেমেছে। বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে অনেক পত্রিকার সার্কুলেশন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারাই এ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে, যারা যুগের চাহিদা অনুযায়ী পত্রিকার অনলাইন ভার্সন চালু রাখতে পারবে। ফেসবুকে অনেকে নিউজের লিঙ্ক শেয়ার করে, তা থেকেই টুকটাক পত্রিকা পড়ে নেন বেশীরভাগ পাঠক। দেশের সর্বত্র ইন্টারনেট ব্যবস্থা সহজলভ্য হওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছাপা পত্রিকার চেয়ে অনলাইনে বেশি মানুষকে পত্রিকা পড়তে দেখা যায়। এভাবেই পত্রিকা পড়ার সংস্কৃতির ধরন বদলাচ্ছে। ভবিষ্যতে সেটি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটি ভাবার দায়িত্ব না হয় বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখকদেরই ওপরই থাক।
লেখক: নির্বাহী সম্পাদক— জিবি বার্তা ডটকম ও সম্পাদক— কবিতার কাগজ কথিকা
সম্পাদক প্রকাশক : খন্দকার মোঃ বদরুল আলম । কার্যালয়, মার্ভেলাস টাওয়ার দিত্বীয় তলা ১০/১১ নং অফিস সিলেট-গোলাপগঞ্জ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ০১৭২০৫৫৪৫৯০। ই-মেইল : gbbartanews@gmail.com