মো. বদরুল আলম: সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের স্বপ্ন নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য তাজেল আহমদ। গত ৪ আগস্ট গোলাপগঞ্জে ছাত্র জনতার আন্দোলনে গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীতে গুলিবিদ্ধ হন তাজেল। পুলিশের ছোড়া গুলি তার ডান হাতের একপাশ দিয়ে ঢুকে যায়।
সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌঘরী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম এর ছেলে তাজেল আহমদ। ৫ ভাই বোন এর মধ্যে সে সবার বড়, সে গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্র দলের সদস্য, মিটিং মিছিলে সবসময় ছিল তার জোরালো অংশগ্রহণ। পরিবারের উপার্জনকারী তাজেল এর সপ্ন ছিল স্বাবলম্বী হয়ে দরিদ্র পরিবারের হাল দরবে । সেই সপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিনিত হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গত ৪ আগষ্ট গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীতে পুলিশের গুলি তার হাতে লাগে, মাঠিতে লুটিয়ে পড়ে যায় সে , সাথে সাথে আন্দোনলের অন্য সদস্যরা তাকে সিলেট এমএজি উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা শেষে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ঢাকাতে ৩ টি অপারেশন শেষে এখন বাড়িতে রয়েছেন।
এখনো হাতের ব্যাতায় কারাচ্ছেন তাজেল, চিকিৎসকরা বলেছেন দীর্ঘদিন চিকিৎসকের তত্বাবদানে থাকতে হবে। এদিকে দরিদ্র পরিবারের সন্তান তাজেল আহমদ চিকিৎসা খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই তাজেলের। পুরোনো ভাঙাচোরা টিনের ঘরটিতে কেন রকম বসবাস করছেন ৫ ভাই বোন ও মা বাবাকে নিয়ে।
তাজেল আহমদের চাচা ডাঃ সামস উদ্দিন জানান, ৪ আগস্ট বিকেলে গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী প্রাঙ্গণে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অবস্থান কর্মসূচী ছিল। আমার বাতিজা তাজেল আহমদ এই কর্মসূচীতে সামবের কাতারে যুক্ত হয়। বেলা ২ টার দিকে এক পর্যায়ে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে উপস্থিত ছাত্র জনতার পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে সময় তাজেলের শরীরে এসে গুলি লাগে। অসহায় এই পরিবার এখন কিভাবে চলবে, আমি সবার সহযোগীতা চাচ্ছি।
এসময় আহত তাজেল আহমদ বলেন, আমি গুলি খেয়েছি আমার দুঃখ নেই, জোর করে ক্ষ্মতায় থাকা স্বৈরাচারী’ শেখ হাসিনার পতন হয়েছে এতে আমি খুশি, এই অবৈধ সরকারের পতনে আমার জীবন দিতে ও প্রস্তুত ছিলাম। আমরা আবার নতুন করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমার সুস্থতা ও সহযোগীতার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।
উল্লেখ্য ৪ আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সিলেটের গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ বাজার ও চৌমুহনীতে পুলিশ-বিজিবি, আওয়ামী লীগের নেতাদের হামলায় ৬ জন নিহত হন শতাধিক ছাত্র জনতা আহত হন। এবিষয়ে নিহত ও আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
সম্পাদক প্রকাশক : খন্দকার মোঃ বদরুল আলম । কার্যালয়, মার্ভেলাস টাওয়ার দিত্বীয় তলা ১০/১১ নং অফিস সিলেট-গোলাপগঞ্জ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ০১৭২০৫৫৪৫৯০। ই-মেইল : gbbartanews@gmail.com